কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২৫৪ জনে দাঁড়িয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পশ্চিমাঞ্চলের শহরগুলোতে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে জীবিতদের সন্ধানে উদ্ধারকর্মী ও সাধারণ স্বেচ্ছাসেবকেরা বিরতিহীন অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পেরেইরা ও কালি শহরে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তর জানিয়েছে, ভূমিকম্পে প্রায় ৫ হাজার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কয়েক ডজন আবাসিক ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে। দেশের তৃতীয় বৃহত্তম শহর কালিতেই অন্তত ৯৫ জন নিহত হয়েছেন এবং সেখানে ৪৫টি স্থাপনা পুরোপুরি বা আংশিকভাবে ধসে গেছে।
সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে আঘাত হানা এই কম্পনে কালির দক্ষিণাঞ্চলের সাততলা ‘ভ্যানেসা’ ভবনটি ধসে পাশের একটি শিশুযতœকেন্দ্রের ওপর পড়ে। সেখানে ১৭টি শিশুসহ অন্তত ২০ জন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারে ভারী যন্ত্রপাতির পাশাপাশি মানবশৃঙ্খল তৈরি করে কাজ করছেন উদ্ধারকারীরা। রাজধানী বোগোতা ও মেডেলিন থেকেও দমকল ও উদ্ধারকারী দল কালিতে যোগ দিয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত ক্রেন ও খননযন্ত্র সরবরাহ করছে।
ভূমিকম্পের সুযোগে অপরাধপ্রবণ কালি শহরে লুটপাট ও সহিংসতা ঠেকাতে সেনা মোতায়েন করেছেন শহরের মেয়র আলেহান্দ্রো এদের। একই সঙ্গে রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে। তবে জরুরি সেবা ও উদ্ধারকাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরা এই বিধিনিষেধের আওতামুক্ত থাকবেন।
সম্প্রতি দায়িত্ব নেওয়া দেশটির প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলার জন্য এই দুর্যোগকে বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে কিছু এলাকার অধিবাসী ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা উদ্ধার তৎপরতায় প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা ও সরকারি সহায়তার অপ্রতুলতার অভিযোগ তুলেছেন।
সমস্ত অভিযোগ ও ক্লান্তিকে দূরে ঠেলে দিয়ে এখন সবার মূল লক্ষ্য ধ্বংসস্তূপ থেকে যত বেশি সম্ভব মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা।












