দেশে যে’কজন শিল্পী ব্যান্ড মিউজিকের প্রচলন করেছেন, প্রতিষ্ঠা করেছেন, তাদের একজন আইয়ুব বাচ্চু। তিনি ছিলেন একজন বাংলাদেশী রক গিটারিস্ট , সুরকার , গায়ক এবং গীতিকার। তাকে বাংলাদেশের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ গায়ক এবং পপ সংস্কৃতির আইকন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তার দেখানো পথ ধরেই হেঁটে চলছে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম। এক জীবনে যত নন্দিত গান তিনি উপহার দিয়ে গেছেন, গিটারের যে জাদুকরী সুর ছড়িয়ে গেছেন, তা নিঃসন্দেহে বিস্ময়কর। তিনি ছিলেন বাংলাদেশী পপ সঙ্গীতের অন্যতম পথিকৃৎ ।
আজ বুধবার (১৬ আগস্ট) ‘গিটার জাদুকর’ খ্যাত এই রক কিংবদন্তির জন্মদিন। ১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামের পটিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন আইয়ুব বাচ্চু। ব্যান্ডসংগীতের প্রতি তাঁর ভালোবাসা জন্মায় শৈশব থেকেই। সন্তানের এমন আগ্রহ দেখে ১১ তম জন্মদিনে বাবা একটি গিটার কিনে দেন তাঁকে। সেই থেকেই শুরু, এগারো বছরের কিশোর একদিন হয়ে ওঠেন দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় গিটারিস্ট ও ব্যান্ড তারকা।
কলেজজীবনে ওঠার পরই বন্ধুদের নিয়ে একটি ব্যান্ড গঠন করেন আইয়ুব বাচ্চু। প্রথমে এর নাম ছিল ‘গোল্ডেন বয়েজ’ পরে অবশ্য নাম বদলে ‘আগলি বয়েজ’ রাখেন তারা। এই ব্যান্ডের গায়ক ছিলেন কুমার বিশ্বজিৎ। আর গিটারিস্ট ছিলেন আইয়ুব বাচ্চু। তারা স্থানীয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান করতেন।
১৯৭৭ সালে ‘ফিলিংস’ ব্যান্ডে গিটারিস্ট হিসেবে যোগ দেন আইয়ুব বাচ্চু। এরপর ১৯৮০ সালে তিনি ‘সোলস’-এ যোগদান করে। এই ব্যান্ডের হয়ে টানা দশ বছর পারফর্ম করেছিলেন তিনি। অতঃপর নিজে কিছু করার ভাবনা থেকে ১৯৯০ সালে গড়ে তোলেন ‘লিটল রিভার ব্যান্ড’। যা পরবর্তীতে ‘লাভ রানস ব্লাইন্ড’ বা ‘এলআরবি’ নামে বিপুল খ্যাতি লাভ করে।
ব্যান্ডের হয়ে আইয়ুব বাচ্চু উপহার দিয়েছেন এলআরবি (১৯৯২), সুখ (১৯৯৩), তবুও (১৯৯৪), ঘুমন্ত শহরে (১৯৯৫), ফেরারি মন (১৯৯৬), স্বপ্ন (১৯৯৬), আমাদের বিস্ময় (১৯৯৮), মন চাইলে মন পাবে (২০০০), অচেনা জীবন (২০০৩), মনে আছে নাকি নেই (২০০৫) অ্যালবামগুলো। এ ছাড়া একক শিল্পী হিসেবে আইয়ুব বাচ্চুর অ্যালবামের মধ্যে রয়েছে-রক্তগোলাপ (১৯৮৬), ময়না (১৯৮৮), কষ্ট (১৯৯৫), সময় (১৯৯৮), একা (১৯৯৯), প্রেম তুমি কি! (২০০২), দুটি মন (২০০২), কাফেলা (২০০২), প্রেম প্রেমের মতো (২০০৩)। এর বাইরে তাঁর গাওয়া অসংখ্য মিক্সড অ্যালবাম রয়েছে।
আইয়ুব বাচ্চুর গাওয়া অসংখ্য কালজয়ী গানের মধ্যে রয়েছে ‘সেই তুমি’, ‘কষ্ট পেতে ভালোবাসি’, ‘এখন অনেক রাত’, ‘মেয়ে’, ‘কেউ সুখী নয়’, ‘হাসতে দেখো গাইতে দেখো’, ‘এক আকাশের তারা’, ‘ঘুমন্ত শহরে’, ‘রুপালি গিটার’, ‘উড়াল দেবো আকাশে’, ‘একচালা টিনের ঘর’, ‘তারাভরা রাতে’, ‘বাংলাদেশ’, ‘বেলা শেষে ফিরে এসে’, ‘আমি তো প্রেমে পড়িনি’, ‘আম্মাজান’, ‘ফেরারি মন’ ইত্যাদি।
২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর লাখো ভক্ত, পরিবার পরিজনকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান রক কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চু।