চিনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ (Bangladesh China deal)। তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প থেকে শুরু করে জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার সম্ভাবনা, দুই দেশের মধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা এগোচ্ছে।

সম্প্রতি ঢাকায় চিনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত বাংলাদেশের পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

পররাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী চীনের সাথে কৌশলগত সম্পর্কের ওপর জোর দিয়ে বাংলাদেশের ‘এক চীন নীতি’র প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের ধারাবাহিকতায় দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উচ্চপর্যায়ে নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। বৈঠকে চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের অবকাঠামোগত ভিত্তি স্থাপন এবং মোংলা বন্দরের আধুনিকায়নসংক্রান্ত বাণিজ্যিক চুক্তি ও ইপিজেড গঠন নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় ৩০টি চীনা প্রতিষ্ঠান অন্তত ৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে পারে, যা বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি করবে।

এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানান, বিমানবাহিনীর আধুনিকায়ন পরিকল্পনার আওতায় চতুর্থ প্রজন্মের উন্নত যুদ্ধবিমান, কমব্যাট এয়ারক্রাফট ও হেলিকপ্টার কেনার প্রক্রিয়া চলছে। কমিটি পর্যায়ে ইতোমধ্যেই একটি খসড়া চুক্তি প্রণয়ন সম্পন্ন হয়েছে, যা বাজেট বরাদ্দ সাপেক্ষে দ্রুত বাস্তবায়িত হবে। ইউরোপীয় বিমানগুলোর তুলনায় চীনা জে-১০সিই যুদ্ধবিমান অর্থনৈতিকভাবে সাশ্রয়ী এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন সামরিক পরিস্থিতিতে এটি দারুণ কার্যকারিতা প্রদর্শন করেছে।

বৈঠকে কৌশলগত অংশীদারত্ব সুদৃঢ় করতে বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর প্রতিষ্ঠা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, তিস্তা নদীর পানি ব্যবস্থাপনা এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান প্রক্রিয়াসহ দ্বিপাক্ষিক নানা ইস্যুতে ঐক্যমত প্রকাশিত হয়েছে।