পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ইতিহাস গড়ার পথে বিজেপি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৩টি আসনের মধ্যে ২০৫টিতেই এগিয়ে আছে বিজেপি, আর ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল এগিয়ে আছে মাত্র ৮২টি আসনে। তবে আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার আগেই বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট লুট করার অভিযোগ করেছেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে মারধরের শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
সোমবার (৪ মে) রাত ৮টার দিকে নিজ আসন ভবানীপুরের সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল গণনাকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সামনে এসব অভিযোগ করেন মমতা।
তার স্পষ্ট অভিযোগ, ভোট ‘লুট’ করা হয়েছে এবং তাকে ‘জোর করে’ হারানো হয়েছে। এমনকি, তাকে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন মমতা।
তবে আবার ফিরে আসবেন বলেও জানিয়েছেন এই তৃণমূল নেত্রী। যদিও তার করা অভিযোগের বিষয়ে আর বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ির সামনে ‘চোর- চোর’ স্লোগান তুলেছিলেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। সোমবার (৪ মে) স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ৩টার কিছু পরে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের ভোট গণনা কেন্দ্রেই এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, মমতা ওই ভোট গণনা কেন্দ্রে পৌঁছানোর আগেই সেখানে বিজেপি কর্মীদের জটলা ছিল। ছড়িয়েছিল উত্তেজনাও।
এরপর মমতার গাড়ি সাখাওয়াত মেমোরিয়ালে পৌঁছোতেই ‘চোর-চোর’ স্লোগান তুলতে থাকেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাখাওয়াত মেমোরিয়ালে পৌঁছোনোর কিছু আগেই ওই কেন্দ্রের অদূরে একটি পাম্পে বসেছিলেন তৃণমূলের কর্মীরা। তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীও সেখানে ছিলেন।
পরে জানা যায়, পুলিশ তৃণমূল কর্মীদের সেখান থেকে উঠে যেতে বলে। যদিও ওই সময়ে তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সেখানে ছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। এর কিছু পরেই এজেসি বোস রোড ধরে এগিয়ে আসা বিজেপি সমর্থকদের সঙ্গে তর্কাতর্কি শুরু হয় পুলিশের। পরে বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা তৃণমূলের জমায়েতস্থলে পৌঁছে যায়। তৃণমূল কর্মীদের পেতে রাখা চেয়ার ভাঙচুরেরও অভিযোগ ওঠে তাদের বিরুদ্ধে।
উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতেই সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে ভোট গণনা কেন্দ্রের চত্বরে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়। বাড়ানো হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানের সংখ্যাও। এর মধ্যেই বিজেপি সমর্থকরা মমতার বিরুদ্ধে ‘চোর-চোর’ স্লোগান তুলতে থাকেন। ওঠে ‘গো ব্যাক’ স্লোগানও।












