ড্রাগন ফলের বাইরের খোসা দেখতে রূপকথার গল্পের ড্রাগনের পিঠের মতো। রূপকথার ড্রাগনের মতো কিছুটা মিল থাকার জন্য ড্রাগন ফল হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে সুস্বাদু ড্রাগন ফল সবার কাছে বেশ জনপ্রিয়। চিকিৎসকেরা ড্রাগন ফলকে ‘ট্রপিক্যাল সুপারফুড’ বলছেন। ড্রাগন ফলের উপকারিতা বেশ চমকে ওঠার মতো। ডেঙ্গু জ্বরের মোকাবিলায় অন্যতম ভরসা হয়ে উঠছে ড্রাগন ফল। ডায়াবেটিস ও প্রস্টেট ক্যানসারের মোকাবিলায়ও এই ফল বেশ কার্যকর।

পুষ্টিবিশারদরা জানিয়েছেন, ড্রাগন ফলে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি, ভিটামিন বি১, বি২, বি৩ থাকে। ফলে রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর। এক কাপ (২২৭ গ্রাম) ড্রাগন ফলে, ক্যালোরির মাত্রা ১৩৬, প্রোটিনের মাত্রা ৩ গ্রাম, ফ্যাটের মাত্রা শূন্য, ফাইবারের মাত্রা ৭ গ্রাম, আয়রনের মাত্রা ৮ শতাংশ, ম্যাগনেসিয়ামের মাত্রা ১৮ শতাংশ, ভিটামিন-সি এর মাত্রা ৯ শতাংশ, ভিটামিন-ই এর মাত্রা ৪ শতাংশ। ফাইবারের পরিমাণ বেশি থাকায় এই ফল খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। এই ফলে থাকা ক্যারোটিন, লাইকোপেন প্রস্টেট ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। এ কারণে ড্রাগন ফলকে সব রোগের মহৌষধ বলা হয়।

চিকিৎসকদের মতে, ড্রাগন ফলে প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আছে। যা রক্তে অণুচক্রিকা বা প্লেটলেটের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে ডেঙ্গুর চিকিৎসায় এই ফল খুবই কার্যকর। আমাদের অনেক রোগী সুফল পেয়েছেন। তাছাড়া এই ফলে থাকা আয়রন রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদনে সহায়তা করে। তাই অ্যানিমিয়া রোগীদের জন্য ভাল।

২০০৭ সালে বাংলাদেশে প্রথম ড্রাগন ফলের গাছ নিয়ে আসা হয়। এখন বাংলাদেশের নাটোর, পাবনা, বগুড়া, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় প্রচুর ফলন হচ্ছে। ড্রাগন ফল দেখতে সুন্দর, সুস্বাদু ও আকর্ষণীয়। ফলের ভেতর কালোজিরার মতো ছোট ছোট বীজ থাকে। একটি গাছ থেকে ১ মণ ফল আহরণ সম্ভব এবং ২০ বছর যাবৎ ফল আহরণ করা যায়।

সাধারণত তিন জাতের ড্রাগন ফল পাওয়া যায়। যথা- ১. লাল ড্রাগন ফল। ২. কোস্টারিক ড্রাগন ফল। ৩. হলুদ ড্রাগন ফল। ড্রাগন ফলে রয়েছে ৮০ থেকে ৯০ গ্রাম পানি। এছাড়া রয়েছে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ফসফরাস, নায়াসিন, ভিটামিন সি।

ড্রাগন ফলে ফ্ল্যাভোনয়েড, ফেনোলিক অ্যাসিড এবং বিটাসায়ানিন-এর মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ। এগুলো কোষগুলোকে ফ্রি র‌্যাডিক্যালের হাত থেকে রক্ষা করে।