ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও দেশকে পরিচ্ছন্ন রাখতে সারাদেশের মানুষের সক্রিয় সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারপ্রধান বলেন, দেশের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গঠনে এগিয়ে এলে কোনো বাধাই অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে পারবে না।

তিনি বলেন, আগামী তিন মাস ডেঙ্গু সমস্যা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। শতভাগ সমাধান সম্ভব না হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তারেক রহমান বলেন, ‘নিজেকে সুস্থ রাখি, সমাজকে সুস্থ রাখি।’ প্রতি সপ্তাহে এক ঘণ্টা করে পরিচ্ছন্নতার জন্য সময় দিলে অবশ্যই পরিস্থিতির পরিবর্তন আসবে।

তিনি বলেন, এবার আপনারা আমাকে বলেন, এতগুলো মানুষ— আমরা যদি দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই, কেউ কি ঠেকিয়ে রাখতে পারবে? কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। এখন আপনাদেরকে দায়িত্ব নিতে হবে দেশটা কীভাবে আমরা গড়ে তুলবো। এই দেশটা আমাদেরকে গড়ে তুলতে হবে কারণ এই দেশে আমরা সকলে থাকবো।

সরকারপ্রধান বলেন, আজকে এই যে আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি, এই যে হাজার হাজার মানুষ এই মাঠে, সারা দেশের সবগুলো জেলাতে মিলিয়ে লাখ লাখ মানুষ যারা আমরা একত্রিত হয়েছি, আমরা একটি লক্ষ্য নিয়ে একত্রিত হয়েছি যে, আমরা আমাদের দেশকে পরিষ্কার করবো, আবর্জনা মুক্ত করার চেষ্টা করবো।

বক্তব্যে তরুণদের রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই যে সংখ্যাটা আমি বললাম, একটা দেশের এত বড় তরুণ সমাজ যদি দেশকে পরিবর্তন করতে চায়, তাহলে করা সম্ভব। তরুণ সমাজ যে পরিবর্তন করতে পারে, সেটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সারা বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, পরিবর্তনের সূচনা সেখান থেকেই তরুণ সমাজ করেছে। কাজেই আসেন, আজকে আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি, আগামী তিন মাস আমরা এই যে ডেঙ্গুর যে সমস্যাটা, এই সমস্যাটার আমরা সমাধান করার চেষ্টা করবো। হয়তো আমরা ১০০ ভাগ পারবো না, কিন্তু অন্তত ৮০ ভাগ আমরা পারবো।

তারেক রহমান বলেন, আমি এই যে যেই কথাটা বলেছি- ২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের তরুণ সমাজ দেখিয়ে দিয়েছে দেশকে কী করে পরিবর্তন করতে হয়। পরিবর্তন হয়েছে। তরুণ সমাজের কাছে আমার আহ্বান- আসুন এবার রাষ্ট্রকে, দেশকে আমরা পুনর্গঠন করি।

নাগরিক সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী ‘নিজেকে সুস্থ রাখি, সমাজকে সুস্থ রাখি’ এই বার্তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিক যদি প্রতি সপ্তাহে মাত্র এক ঘণ্টা নিজ আঙিনা ও আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার পেছনে দেন, তবে সামগ্রিক পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন ঘটবে।

অনুষ্ঠান শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রী প্রদর্শনী স্টলগুলো ঘুরে দেখেন এবং উপস্থিত সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ১২ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এই বিশেষ অভিযান আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে একযোগে পরিচালিত হবে।