মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের ১৪তম দিনে এসে ইরানের প্রধান জ্বালানি কেন্দ্র এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘খারগ দ্বীপ’-এ এক ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৩ মার্চ) গভীর রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই অভিযানের কথা নিশ্চিত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হামলার সময় দ্বীপটির তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করা হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বালানি অর্থনীতিবিদ ও প্রভাষক এড হিরস মনে করেন, এত ছোট একটি দ্বীপে হামলা হলে তেল রপ্তানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।
খারগ দ্বীপে এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর ‘আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর’ এক বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে যে, ইরানের তেল বা জ্বালানি অবকাঠামোতে কোনো প্রকার আঘাত হানা হলে এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতাকারী সকল তেল কোম্পানির স্থাপনা ‘মুহূর্তের মধ্যে ছাইয়ের স্তূপে’ পরিণত করা হবে।
ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এই বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, আঞ্চলিক কোনো দেশ বা বিদেশি কোম্পানি যদি যুক্তরাষ্ট্রকে কোনোভাবে সহায়তা করে, তবে তাদের জ্বালানি কেন্দ্রগুলোও ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। ইরানের এই সরাসরি হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোর মধ্যে নতুন করে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
জ্বালানি বিশ্লেষক এড হার্স আরও সতর্ক করেছেন যে, যদি এই যুদ্ধের ফলে ইরানের তেল রপ্তানি স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং ইরাক ও কুয়েতের মতো তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোও স্থবির হয়ে থাকে, তবে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে এশীয় দেশগুলোর অর্থনীতিতে, যারা মূলত অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত পণ্য আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
এর আগে শনিবার (১৪ মার্চ) ভোরে সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী বোমা হামলাগুলোর একটি পরিচালনা করেছে এবং ইরানের ‘‘ক্রাউন জুয়েল’’ খার্গ দ্বীপে থাকা সব সামরিক লক্ষ্য সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি এখনো দ্বীপটির তেল অবকাঠামো ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নেইনি। তবে ইরান বা অন্য কেউ যদি হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজের অবাধ ও নিরাপদ চলাচলে বাধা দেয়, তাহলে আমি সঙ্গে সঙ্গে সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করব।’
ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই দ্বীপটি দেশটির অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ পরিচালনা করে বলে সাম্প্রতিক এক নোটে জানিয়েছে জেপি মরগান।
ম্যানহাটনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আয়তনের এই দ্বীপে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিলে দ্রুত বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।












