বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ইংল্যান্ডকে ২২৯ রানে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। আফগানিস্তানের পর এবার দক্ষিণ আফ্রিকার কাছেও হারল মানল গতবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ৩৯৯ রান তুলে দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১৭০ রানে গুটিয়ে যায় বেন স্টোকসদের ইনিংস। ফলে ২২৯ রানে লজ্জার হার হজম করল ইংল্যান্ড।
প্রোটিয়াদের দেয়া ৪০০ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে ভালো শুরু করতে পারেননি দুই ইংলিশ ওপেনার জনি বেয়ারস্টো এবং দাউয়িদ মালান। ইংল্যান্ড শিবিরে ইনিংসের ২ দশমিক ৩ ওভারের সময় আঘাত হানেন লুঙ্গি এনগিদি। তার বলে দলীয় ১৮ রানে ডুসেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন বেয়ারস্টো। ফেরার আগে ১২ বলে এক ছয় ও এক চারে করেন ১০ রান। তিন নম্বরে নামা অভিজ্ঞ ব্যাটার জো রুটও ফিরে যান দ্রুতই। তিনি মাত্র ২ রানে জানসেনের বলে মিলারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন।
৫ দশমিক ১ বলে আবারও আঘাত হানেন জানসেন। এবার তার দ্বিতীয় শিকার ওপেনার মালান। ১১ বলে এক চারে ৬ রান করে ফেরেন এই ওপেনার। ২৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে কাঁপতে থাকা ইংল্যান্ডের ত্রাতা হতে পারেননি দীর্ঘদিন পর ইনজুরি কাটিয়ে একাদশে ফেরা বেন স্টোকস। রাবাদার বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফেরেন স্টোকস। প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে তিনি করেন মাত্র ৫ রান।
৮ দশমিক ১ বলে ৩৮ রান তুলতেই ইংল্যান্ড হারায় ৪ উইকেট। এরপর হ্যারি ব্রুকের সঙ্গে আগ্রাসী জবাব দিতে শুরু করেন অধিনায়ক বাটলার। উইকেট হারালেও রানের চাকা সচল রেখে প্রথম ১০ ওভারে ৬৭ রান তুলে নেয় দলটি। তবে এই জুটিকে বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়নি জেরাল্ড কোয়েৎজি। দলীয় ৬৭ রানে তার বলে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়েন অধিনায়ক বাটলার। যদিও তিনি রিভিউ নিয়েছিলেন। তবে আম্পায়ারস কলে তাকে ফিরতে হয়েছে ব্যক্তিগত ১৫ রানে। তিনি ৭ বলের মোকাবিলায় ২ চার ও এক ছয়ে এই রান সংগ্রহ করেন। একই ওভারে ব্রুককেও ফেরান কোয়েৎজি। ব্রুক ২৫ বলে দুই চার ও এক ছয়ে করেন ১৭ রান।
ইনিংসের ১৫ দশমিক ১ বলে তার তৃতীয় শিকার হয়ে সাজঘরে ফিরেন আদিল রশীদ। উইলি-অ্যাটকিনশনের ব্যাটে ১০০ রান তুলতেই আবার এনগিদির দ্বিতীয় আঘাত। এবার তার শিকার হন উইলি। মাত্র ১০০ রান তুলতেই ফিরে যান ৮ ব্যাটার। এরপরই শুরু হয় অ্যাটকিনশন-উড ঝড়। তবে এই ঝড় শুধুমাত্র ব্যবধানই কমাতে পেরেছে।
এর আগে প্রোটিয়াদের হয়ে দলটির হয়ে ইনিংস উদ্বোধনে নামেন কুইন্টন ডি কক ও রেজা হেনড্রিকস। তবে শুরুটা ভালো হয়নি তাদের। প্রথম ওভারেই রিস টপলির বলে জস বাটলারের তালুবন্দী হন ডি কক । শূন্য রানে সাজঘরে ফেরনে তিনি। এরপর ক্রিজে আসেন রাসি ফন ডার ডুসেন। মাঠে নেমে ইংলিশ বোলারদের দেখে শুনে খেলে ফিফটি পূর্ণ করে তিনি। একই ওভারে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ অর্ধ শতক তুলে নেন হেনড্রিকস।
অবশ্য ফিফটির ইনিংস লম্বা করতে পারেননি ডুসেন। আদিল রশিদের বলে জনি বেয়ারস্টোর তালুবন্দী হন তিনি। আউট হওয়ার আগে ৬০ রান করেন এ ব্যাটার। পরে বাইশ গজে আসেন প্রোটিয়া দলপতি এইডেন মার্করাম। তার সঙ্গে ৩৯ রানের জুটি গড়েন রেজা। ম্যাচের ২৬তম ওভারে আদিল রশিদের বলে বোল্ড হন রেজা। আউট হওয়ার আগে ৮৫ রান করেন এ ওপেনার।
রেজার বিদায়ে ক্রিজে আসেন হেনরিখ ক্লাসেন। তাকে সঙ্গে নিয়ে দলীয় ইনিংস এগিয়ে নিতে থাকেন মার্করাম। তবে ৬৯ রানের জুটি গড়ে প্রোট্রিয়া অধিনায়ক আউট হলে ভাঙে এই দুই জনের পার্টনারশিপ। ৪৪ বলে ৪২ করেন তিনি। এরপর উইকেটে আসেন মিলার। তবে নামের পাশে ৫ রান যোগ করতেই দলীয় ২৪৩ রানে সাজঘরে ফেরেন তিনি।
ষষ্ট উইকেটে ব্যাটে আসেন মার্কো জানসেন। তাকে সঙ্গে নিয়ে ইংলিশ বোলারদের ওপর তান্ডব চালাতে থাকে ক্লাসেন। দ্রুত রান তুলতে থাকা এই ব্যাটার শতক তুলেনেন ৬১ বলে। এর মধ্যে দিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্রুত শতক করার তালিকায় ষষ্ট স্থানে নিজের জায়গা করে নেন ক্লাসেন। এদিকে ক্লাসনের শতকের পর ইংলিশ বোলারদের ওপর চড়া হতে থাকেন জানসেন। চার-ছয়ের তান্ডবে ৩৫ বলে নিজের অর্ধশতক তুলে নেন তিনি।
তবে দলীয় ৩৯৪ রানে ক্লাসেন আউট হলে ভাঙে ১৫১ রানের জুটি। সাজঘরে ফেরার আগে ১০৯ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৭৫ রানে অপরাজিত থাকেন মার্কো জানসেন। এতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে প্রোটিয়াদের ইনিংস থামে ৩৯৯ রানে। এরমধ্যে দিয়ে ইংলিশদের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ করার রেকর্ড গড়েন আফ্রিকা। এর আগে ২০১৫ সালে নিউজিল্যান্ডের ৩৯৮ রান ছিল সর্বোচ্চ।