দুবাইয়ের কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ।সোমবার (২৭ জুলাই) দুবাইয়ের একটি আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। পরে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আইনি প্রক্রিয়া শেষে কারামুক্ত হন তিনি। রোববার (২ আগস্ট) বেনজীর আহমেদের ঘনিষ্ঠ সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে।

তবে আদালতের শর্ত অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদের দুবাই ত্যাগের অনুমতি নেই এবং তার পাসপোর্টও কর্তৃপক্ষের জিম্মায় রয়েছে।

এদিকে তার মুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশের ইন্টারপোল শাখা ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানে না বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দুদকের মুখপাত্র মো. আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে জারি হওয়া ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে দুবাই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। মামলাগুলোর প্রাথমিক নথিপত্র পর্যালোচনার পর তারা প্রত্যর্পণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আরও কিছু তথ্য-উপাত্ত চেয়েছে।

দুদক ও পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, দুবাই পুলিশের চাওয়া নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এসব নথি শিগগিরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইন্টারপোলের মাধ্যমে তা দুবাই পুলিশের কাছে পৌঁছানো হবে।

পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র এএইচএম শাহাদাত হোসাইন বলেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে যেসব মামলা রয়েছে, সেগুলোর তথ্য-উপাত্ত প্রস্তুতের কাজ করছে তদন্তকারী সংস্থাগুলো।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রয়োজনীয় নথিপত্র সরবরাহের পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা গেলে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে অপরাধের প্রমাণ, দুই দেশের আইনের সামঞ্জস্য, আদালতের সিদ্ধান্ত এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ—এই চারটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ওলোরা আফরিন বলেন, এসব বিষয় বিবেচনা করেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ ছয়টির বেশি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত চলছে।