অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের (ক্রুড অয়েল) তীব্র সংকটের কারণে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি লিমিটেড (ইআরএল) বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। গত দুই মাস ধরে অপরিশোধিত তেল আমদানি বন্ধ থাকায় রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে এর পরিশোধন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে কারখানাটিতে শেষ পরিশোধন কার্যক্রম হয়েছিল বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির দুজন কর্মকর্তা।

তবে দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো প্রভাব পড়বে না বলে আশ্বস্ত করেছে জ্বালানি বিভাগ।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের কারণে গত প্রায় দুই মাস ধরে ক্রুড তেল আমদানি বন্ধ রয়েছে। এ মাসের তিন তারিখ বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হলেও রিজার্ভে থাকা ক্রুড দিয়ে দৈনিক এক হাজারের নিচে উৎপাদন করে চলছিল প্রতিষ্ঠানটি। তবে এই মাসের ১৮ তারিখ মালয়েশিয়া থেকে এক টনের একটি চালান দেশে আশার কথা জানিয়েছে বিপিসি। এছাড়াও আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে ক্রুডের আরও একটি চালান দেশে আসবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই জ্বালানি আসার আগে এই উৎপাদন কার্যক্রম চালানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে ইআরএল কর্মকর্তারা।

নাম প্রকাশ না করে ইআরএলের একজন কর্মকর্তা স্টার নিউজকে জানান, পাঁচটি ট্যাংকের তলানিতে প্রায় ৩৩ হাজার টন ক্রুড তেল ডেডস্টক ছিল। আর এসপিএম থেকে ৫ হাজার টন আনা হয়েছিল রিফাইনারিতে। এগুলো দিয়ে উৎপাদন চালু রাখা হয়েছিল। কিন্তু এটি অনিরাপদ অপারেশন। কারণ ডেডস্টকে ময়লা-বর্জ্য জমে থাকে। এগুলো যেকোনো সময় পাম্পে আটকে যেতে পারে। যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্তও হতে পারে। সাধারণত ট্যাংকের তলানির ১.৫ মিটারের মতো ডেডস্টক ধরা হয়। রোববার বিকালে তা ১ মিটারের নিচে নেমে গেছে। ফলে আর তা ব্যবহার উপযোগী নয়। আর ডেডস্টকের তেলে থাকা বর্জ্য, স্লাগের কারণে প্ল্যান্টের ক্ষতি হতে পারে। এসব বিবেচনায় পরিশোধন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।

বিপিসির তথ্যমতে, দেশে প্রতি বছর ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে ডিজেল ও অপরিশোধিত তেলের পরিমাণ বেশি। প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে, যা ইআরএলে পরিশোধন করা হয়। এলপিজি, পেট্রোল, অকটেন, কেরোসিন, ডিজেল ও ফার্নেসসহ ১৩ রকমের তেল জাতীয় পণ্য উৎপাদন করে ইআরএল। অপরিশোধিত তেলের পাশাপাশি ভারত ও চীন থেকে বছরে প্রায় ৪৫ লাখ টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে বাংলাদেশ।