ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর বিভিন্ন জেলায় সহিংসতার ঘটনায় ঘটেছে। নানা জায়গায় বিজেপির কর্মীদের বুলডোজার নিয়ে মিছিল করার ছবি সামনে এসেছে। আবার, কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় বুলডোজার দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি ইউনিয়ন দফতর ও দোকান ভেঙে দেওয়ার ভিডিও-ও ছড়িয়ে পড়েছে। এসব সহিংসতায় গতকাল বুধবার (৬ মে) পর্যন্ত পাঁচজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

নিহতরা হলেন- পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) চন্দ্রনাথ রথ, আবির শেখ, যাদব বর, মধু মণ্ডল ও বিশ্বজিৎ পট্টনায়েক। ভোট গণনার পর্ব শেষ হওয়ার পর থেকে রাজ্যজুড়ে সহিংসতায় নিহতের ঘটনা ঘটেই চলছে। ভোট গণনার পর্ব শেষ হওয়ার পর থেকে রাজ্যজুড়ে সহিংসতায় নিহতের ঘটনা ঘটেই চলছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বুলডোজার বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে, বিশেষত উত্তরপ্রদেশে, মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের সম্পত্তি গুঁড়িয়ে দেওয়ার একটি প্রতীক হয়ে উঠেছে।

বুলডোজার দিয়ে মুসলমানদের বাড়ি ভেঙে দেওয়া উত্তর প্রদেশে প্রায়ই ঘটে থাকে, যদিও সেরাজ্যের সরকার যুক্তি দিয়ে থাকে যে ওই সব বাড়িগুলো হয় বেআইনিভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল, অথবা সেগুলোতে কোনো দুষ্কৃতকারী বাস করতেন।

উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও ‘বুলডোজার’ প্রতীকটি বারবার উঠে এসেছে। তিনি যখন পশ্চিমবঙ্গের ভোট প্রচারে এসেছিলেন, তখনও দেখা গিয়েছিল বুলডোজার।

তবে কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছেন যে বুলডোজারসহ বিজয় মিছিল করা যাবে না এবং যারা এই বুলডোজারগুলো ভাড়া দিচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক সিদ্ধনাথ গুপ্তাও বুধবার স্বীকার করেছেন যে “ফলাফল ঘোষণার পর থেকে রাজ্যে হুমকি, সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে”।

এই সব সহিংসতায় দুজন নিহত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন তিনি।

তবে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি দুই দলই অভিযোগ করেছে যে তাদের দলের দুজন করে কর্মী নিহত হয়েছেন।বিভিন্ন জায়গায় বিজেপির পতাকা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয় দখল করা, তৃণমূলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মারধরের ঘটনাগুলো সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

তবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন যে এ ধরনের সহিংসতায় যারা জড়িত থাকবেন, তাদের দল থেকে বহিষ্কার করে দেওয়া হবে।