বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে চট্টগ্রাম অঞ্চলে টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাতে পাহাড় ও দেওয়াল ধসে অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার ভোরে বান্দরবানের লামায় একই এলাকার পাঁচজন, বুধবার কক্সবাজারের উখিয়ায় পাঁচ মাদ্রাসাছাত্রী ও চট্টগ্রামের দুই শিশু রয়েছে। ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন লাখো মানুষ, তলিয়ে গেছে রেললাইন ও সড়ক এবং সাজেকে আটকা পড়েছেন শত শত পর্যটক।
জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার সদর, চকরিয়া, পেকুয়া, উখিয়া, টেকনাফ, রামু, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, ঈদগাঁও ও মাতামুহুরী এলাকার বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হয়েছে। বহু বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গ্রামীণ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চকরিয়া ও পেকুয়ার রাজাখালী, মগনামা ও উজানটিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকটি মাছের ঘেরে পানি আটকে থাকায় জলাবদ্ধতা আরও তীব্র হয়েছে এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না নেওয়ায় দুর্ভোগ বেড়েছে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা খালেকুজ্জামান বলেন, টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। এ কারণে পাহাড়সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে।
টানা বৃষ্টির মধ্যে পাহাড়ধসে গত চার দিনে কক্সবাজারে অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে ১৫ জন, কক্সবাজার শহরে দুইজন, চকরিয়ায় দুইজন এবং পেকুয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ায় একজন করে মারা গেছেন।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের মছনিয়াকাটা ডবলতলী এলাকায় পাহাড়ধসে দুই শিশু নিহত হয়। নিহতরা হলো ওবাইদুল ইসলাম (১৩) ও রুমী আক্তার (১৩)। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
খাগড়াছড়িতে এখন পর্যন্ত প্রাণহানির খবর না মিললেও জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ২১৪ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
অতিবৃষ্টির কারণে সাঙ্গু, মাতামুহুরী, কাচালং, চেঙ্গী ও মাইনি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে চার জেলার শত শত গ্রাম প্লাবিত হয়েছে এবং কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।












