ভারতে অবস্থানের পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্য গণমাধ্যম আয়োজনে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার (৫ আগস্ট) নয়াদিল্লির মথুরা রোডের স্যার মার্ক টালি অডিটোরিয়াম থেকে শুরু হওয়া এই ভার্চ্যুয়াল সম্মেলনে শেখ হাসিনা তাঁর স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বক্তব্য রাখেন।
সাউথ এশিয়ার ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাব (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত এই বিশেষ আন্তর্জাতিক সম্মেলন সরাসরি
ভারতীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হও। আয়োজনটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
সম্মেলনে ভার্চ্যুয়ালি সরাসরি যুক্ত ছিলেন শেখ হাসিনার পুত্র ও সাবেক তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক কূটনীতিক আমিনুল হক পলাশ, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ছাড়াও একাধিক বিশ্লেষক ও কূটনীতিক। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন এফসিসি সাউথ এশিয়ার সভাপতি ড. ওয়ায়েল আওয়াদ।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ এই গণমাধ্যম উপস্থিতির মাধ্যমে টানা দুই বছরের নীরবতা ভেঙে প্রথমবার কোনো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিলেন তিনি।
হাসিনার দাবি, ক্ষমতায় ফেরার উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি বাংলাদেশে ফিরছেন না। তাঁর লক্ষ্য নিজের দেশকে ‘সঠিক পথে’ ফেরানো। তিনি বাংলাদেশে ফিরলে তাঁকে মেরে ফেলা হতে পারে, সেই আশঙ্কাও রয়েছে। তবে এ সবের তোয়াক্কা না করেই বাংলাদেশে ফিরতে চান আওয়ামী লীগ নেত্রী। কেন? সেই কারণও জানালেন। গত দু’বছরে (অন্তর্র্বতী সরকার এবং বিএনপি সরকারের আমলে) বাংলাদেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে শুধু পিছিয়েই পড়েছে বলে অভিযোগ হাসিনার। জানালেন, নিজের দেশকে এই প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে উদ্ধারের জন্যই বাংলাদেশে ফিরতে চান তিনি।
এ দিনের ভার্চুয়াল বার্তায় তুলোধনা করলেন তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকেও। জিডিপি-তে ধস থেকে শুরু করে শিল্পে অব্যবস্থা, কর্মসংস্থানের অভাব-সহ বিভিন্ন প্রসঙ্গে বিঁধলেন তারেকের সরকারকে। বললেন, “ধারের টাকায় সরকার চলছে।”
বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর দাবি, এই পরিস্থিতির বদল করতেই তিনি বাংলাদেশের ফিরতে চান। তবে বাংলাদেশে ফেরা নিয়ে তারেকের সরকারের সঙ্গে তাঁর কোনও আলোচনা চলছে না, তা-ও এ দিন স্পষ্ট করে দেন হাসিনা-পুত্র সজীব ওয়াজিদ জয়।
এ দিনের ভার্চুয়াল বার্তায় তুলোধনা করলেন তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকেও। জিডিপি-তে ধস থেকে শুরু করে শিল্পে অব্যবস্থা, কর্মসংস্থানের অভাব-সহ বিভিন্ন প্রসঙ্গে বিঁধলেন তারেকের সরকারকে। বললেন, “ধারের টাকায় সরকার চলছে।”
বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর দাবি, এই পরিস্থিতির বদল করতেই তিনি বাংলাদেশের ফিরতে চান। তবে বাংলাদেশে ফেরা নিয়ে তারেকের সরকারের সঙ্গে তাঁর কোনও আলোচনা চলছে না, তা-ও এ দিন স্পষ্ট করে দেন হাসিনা-পুত্র সজীব ওয়াজিদ জয়।
সেখানে আওয়ামী লীগ নেত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়, তিনি কবে দেশে ফিরছেন? নির্দিষ্ট দিনক্ষণ না জানালেও হাসিনা বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের মানুষ অনেক ভুগেছেন। আমি এটা আর নিতে পারছি না। ডিসেম্বর বিজয়ের মাস। তাই ডিসেম্বরেই ফিরতে চাই। বাংলাদেশের রিকনসিলেশন দরকার।”
বস্তুত, বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে চলে আসার পরে ঢাকার ট্রাইবুনালে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন হাসিনা। তাঁর ফাঁসির সাজা ঘোষণা হয়েছে। বাংলাদেশে ফিরলেই তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে। তবে নিজের অবস্থানে অনড় হাসিনা। প্রশ্ন করায় বললেন, “ওরা আমাকে মেরে ফেলতে পারে, কিন্তু আমাকে ফিরতে হবে। সাধারণ মানুষের সমর্থন আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।” বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “আমি আমার লোকেদের কাছে ফিরে যাব। আমার দেশের লোকেরা যখন ভুগছে, তখন ভয় আমাকে কর্তব্য থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারে না। বাংলাদেশকে সঠিক পথে ফেরাতে আমি ফিরব। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে আমি ফিরতে চাই।”












