প্রতারণার মাধ্যমে বিয়ে, ব্যভিচার ও মানহানির অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানাকে খালাস দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।

এ সময় নাসির-তামিমা দম্পতি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালত সূত্র জানিয়েছে, বিচারে রাষ্ট্রপক্ষের ১০ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

মামলাটি করেছিলেন রাকিব হাসান। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর সঙ্গে বিয়ের সম্পর্ক রেখেই নাসিরকে বিয়ে করেন তামিমা।

গত ৬ মে এ মামলায় বাদী ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায়ের তারিখ (১০ জুন) ধার্য করেন আদালত। সে অনুযায়ী আজ রায় হলো।

আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান বলেন, আদালত এ মামলায় নাসির–তামিমাকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন। ফলে এখন আর বলার সুযোগ নেই যে তাঁদের বিয়ে অবৈধ। রায়ে তাঁরা সন্তুষ্ট।

অন্যদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, তাঁরা ন্যায়বিচার পাননি। তাঁরা আপিল করবেন।

নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানার বিরুদ্ধে মামলা হয় ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিম জসিমের আদালতে তামিমার আগের স্বামী রাকিব হাসান বাদী হয়ে এই মামলা করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, বাদীকে যথাযথভাবে তালাক না দিয়েই নাসিরকে বিয়ে করেন তামিমা।

মামলায় দণ্ডবিধির ৪৯৪/৪৯৭/৪৯৮/৫০০ ধারা অনুযায়ী নাসির হোসেন ও তামিমার বিরুদ্ধে বিয়ের তথ্য গোপন করে অন্যত্র বিয়ে, অন্যের স্ত্রীকে প্রলুব্ধ করে প্রতারণার মাধ্যমে বিয়ে, ব্যভিচার ও মানহানির অভিযোগ আনা হয়।

ওই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মো. মিজানুর রহমান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নাসির, তামিমা ও তামিমার মা সুমি আক্তারকে অভিযুক্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। আদালত এ মামলায় নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি।

জানা যায়, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাকিব হাসানের সঙ্গে তামিমা সুলতানার ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক ৩ লাখ এক টাকা দেনমোহরে বিয়ে এবং রেজিস্ট্রি হয়। বিয়ের পর হতে তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সংসার করতে থাকেন। তোবা হাসান নামে তাদের এক মেয়ে রয়েছে। বর্তমানে মেয়ের বয়স ৮ বছর। তামিমা পেশায় একজন কেবিন ক্রু। তিনি সৌদি এয়ারলাইন্সে কর্মরত রয়েছেন।