আগের ম্যাচের জয়টা যে কেবলই অঘটন ছিল না সেটা দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে বুঝিয়ে দিলো যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশকে ৬ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ এক ম্যাচ হাতে রেখেই জিতে নিলো বিশ্বকাপের সহ-আয়োজকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেটে এটা ইতিহাস। বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি সিরিজ ছিল এটি। আর প্রথম দেখাতেই টেস্ট খেলুড়ে দলকে হারিয়ে সিরিজ জিতে নিলো দেশটি।
বৃহস্পতিবার (২৩ মে) টেক্সাসের হিউস্টনে প্রেইরি ভিউ ক্রিকেট কমপ্লেক্সে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৪৪ রান করে যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে খেলতে নেমে ১৯ ওভার ৩ বলে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৩৮ রানের বেশি করতে পারেনি বাংলাদেশ।
ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা মোটেও ভালো করতে পারেনি বাংলাদেশ। গত ম্যাচে আক্রমণাত্মক খেলা সৌম্য সরকার আজ প্রথম ওভারেই সাজঘরে ফিরেছেন। ইনিংসে তার খেলা প্রথম বলটা ছিল খানিটকটা খাটো লেংথে। সেটা বোলারের মাথার ওপর দিয়ে খেলতে গিয়ে টাইমিং করতে পারেননি। বোলারের হাতে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ডাক খেয়ে সাজঘরে ফিরেছেন।
লিটন দাসের পরিবর্তে সিরিজে প্রথমবার খেলতে নামা তানজিদ তামিম ভালো শুরুর আভাস দিয়েছিলেন। তবে উইকেটে থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি। সাজঘরে ফিরেছেন ১৫ বলে ১৯ রান করে।
৩০ রানে দুই ওপেনারকে হারানোর পর দলের হাল ধরেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও তাওহিদ হৃদয়। দুজনেই প্রয়োজনীয় রানের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান তুলছিলেন। তবে হঠাৎ ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউটের শিকার হন শান্ত। ৩৪ বলে ৩৬ রান করে অধিনায়ক সাজঘরে ফিরলে ভাঙে ৪৮ রানের তৃতীয় উইকেট জুটি।
এরপরই ধ্বস নামে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে। শান্ত ফেরার পর আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তাওহিদ হৃদয়ও। তার ব্যাট থেকে এসেছে ২১ বলে ২৫ রান। গত ম্যাচে লোয়ার মিডল অর্ডার ভালো ব্যাটিং করলেও আজ ব্যর্থ হয়েছে। ইনফর্ম মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও জাকের আলি ফিরেছেন দুই অঙ্ক ছোঁয়ার আগেই।
ব্যাটারদের এমন আসা-যাওয়ার মাঝে সাকিব কিছুটা ব্যতিক্রম ছিলেন। তবে তিনি ২৩ বলে ৩০ রানের বেশি করতে পারেননি। শেষদিকে রিশাদ হোসেন-তানজিম সাকিবরাও দ্রুত ফিরেছেন। ফলে ছোট লক্ষ্য তাড়ায়ও জয়ের দেখা পায়নি টাইগাররা।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের শুরুতে কিছুটা রয়েসয়ে খেলে যুক্তরাষ্ট্র। প্রথম ৩ ওভারে তারা তোলে ১২ রান। পরের তিন ওভারে ৩০ রান তোলে অবশ্য পুষিয়ে নেয় স্বাগতিকরা। সাকিব আল হাসান পাওয়ার প্লের শেষ ওভার করতে এসে দেন ১৫ রান।
সপ্তম ওভারে এসে অবশ্য বাংলাদেশকে উইকেট এনে দেন রিশাদ হোসেন। চতুর্থ বলে তিনি ফেরান স্টিভেন টেইলরকে। ২৮ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৩১ রান করা এই ব্যাটার ক্যাচ দেন বাউন্ডারির কাছে দাঁড়ানো তানজিদ হাসানের হাতে। পরের বলেই আন্দ্রেস গৌসকে স্টাম্পিংয়ের শিকার বানান রিশাদ। টানা দুই বলে উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি।
দুই উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন অধিনায়ক মোনাঙ্ক প্যাটেল ও অ্যারন জোন্স। দুজন মিলে গড়েন ৫৬ বলে ৬০ রানের জুটি গড়েন তারা। ১৭তম ওভারে এসে তাদের এই জুটি ভাঙেন মোস্তাফিজুর রহমান।
তার করা প্রথম বলেই ৩৪ বলে ৩৫ রান করে সাজঘরে ফেরত যান অ্যারন জোন্স। তার ক্যাচ লং অন থেকে দৌড়ে এসে নেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। শেষদিকে এসে এদিন আর তেমন রান করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। ১৯তম ওভারে এসে ১৩ রান খরচ করে দুই উইকেট নেন শরিফুল ইসলাম। শেষ ওভারে ১০ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন। এই ওভারের প্রথম বলেই শূন্য রানে ফেরান আগের ম্যাচে ঝড় তোলা হারম্রিত সিংকে।