বিশ্ব বাজারে আরও কমলো অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। বুধবার (০৭ই সেপ্টেম্বর) এর দাম কমে গত সাত মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। করোনাভাইরাস, বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোতে সুদের হার বৃদ্ধি এবং ইউরোপে অর্থনৈতিক মন্দার শঙ্কা জেঁকে বসায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে বলে মনে করছেন বিশ্লষকরা। খবর রয়টার্সের।
খবর অনুসারে, বৃহস্পতিবার বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ড ক্রুড প্রতি ব্যারেল ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ বা ২ দশমিক ৬৬ ডলার কমে ৯৪ দশমিক ১২ ডলারে বিক্রি হয়েছে, যা গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর সর্বনিম্ন দর। এদিকে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দর ২ দশমিক ১২ শতাংশ বা ২ দশমিক ৩৪ ডলার কমে ছিল ৯৩ দশমিক ১০ ডলার।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের তেলের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ১ দশমিক ৫৫ ডলার বা ১ দশমিক ৮৮ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৮৫ দশমিক ৩৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ সেশনে লেনদেনের একপর্যায়ে ডব্লিউটিআইয়ের দাম নেমে গিয়েছিল ৮৫ দশমিক ১৭ ডলারে, যা গত ২৬ জানুয়ারির পর থেকে সর্বনিম্ন। এর আগে, গত সোমবার রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন তেল উৎপাদক দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস আগামী অক্টোবর থেকে দৈনিক এক লাখ ব্যারেল তেল কম উৎপাদনের ঘোষণা দেয়। তাদের এ সিদ্ধান্তের পরপরই বিশ্ববাজারে বেড়ে যায় তেলের দাম।
জ্বালানি তেলের দাম কমে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপসহ বিশ্বের জ্বালানি তেলের বড় বড় ক্রেতা দেশগুলোতে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরবে। জ্বালানির সরবরাহে ঘাটতি এবং বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়ানোর জন্য তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছিল এসব দেশ।
এ বছরের শুরুতে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১২০ ডলারের বেশি উঠেছিল। করোনা মহামারির প্রকোপ কেটে অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে থাকলে চাহিদা বেড়ে যাওয়া এবং ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য বিশ্বের অন্যতম তেল রপ্তানিকারী দেশ রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞায় সরবরাহ ঘাটতিতে দাম এতটা বেড়েছিল।
রয়টার্স বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপজুড়ে চলছে মন্দাবস্থা। উদীয়নমান অর্থনীতির দেশগুলো তাদের ঋণ পরিশোধ নিয়ে পড়েছে বিপাকে। এ ছাড়া বিশ্বে জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীনে শূন্য কোভিড নীতির কারণে অর্থনীতি কার্যক্রম কমেছে। এসব কারণে চাহিদা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় তেলের দাম কমছে।