রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় রিফাত হোসেন ওরফে আলিফ (২২) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ওই যুবকের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন, টাকা ও একটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ শনিবার  দুপুরে রংপুর মহানগর পুলিশের ডিবি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান উপকমিশনার (অপরাধ) মো. আবু মারুফ হোসেন।

তিনি জানান, ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী ছুরিকাঘাত করেছেন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর সৈয়দ আনোয়ারুল আজিম তাজহাট থানায় পৃথক দুটি মামলা করেছেন। ওই মামলায় শুক্রবার সন্ধ্যায় ছিনতাইকারী চক্রের মূলহোতা রিফাত হোসেন ওরফে আলিফকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্তার কথা স্বীকার করেছেন আলিফ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ি থেকে ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যবহার করা একটি চাপাতি জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে ছিনতাই হওয়া দুটি মোবাইল ফোন ও কিছু টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

আবু মারুফ হোসেন জানান, নেশার টাকার জন্যই মোবাইল ফোন ও টাকা কেড়ে নিয়ে এক শিক্ষক ও এক শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত করে ছিনতাইকারীরা। গ্রেফতার আলিফ ও তার দুই সহযোগী চুরি-ছিনতাই করেই জীবন চালায়। এরা নিয়মিত নেশা করে। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে এরা চুরি ও ছিনতাই করে। ঘটনার দিন তিনজনই ছিনতাইয়ের জন্য ঘোরাঘুরি করতে থাকে বলে জানান উপকমিশনার (অপরাধ) মো. আবু মারুফ হোসেন।

এ ঘটনায় ছিনতাইকারী চক্রের আরও দুজন সদস্য পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান চলছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

গত বৃহস্পতিবার  রাত আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটের সামনে শিক্ষার্থী শাহরিয়ার সিদ্দিক পরাগ মাহমুদ ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন। এ ঘটনার পাঁচ ঘণ্টা পার না হতেই ভোরে হাঁটতে বের হয়ে নগরীর লালবাগ এলাকায় ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মনিরুজ্জামানও হামলার শিকার হন।

তাদের দুইজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকরা পরাগের হাত সার্জারি করতে অপারগতা জানান। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে শিক্ষক মনিরুজ্জামান রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।