ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনের টিকিট কনফার্ম, এবার মহাযুদ্ধের পালা! লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে শুক্রবার রাতের এক রুদ্ধশ্বাস কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-১ ব্যবধানে বিদায় করে বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে পা রাখল স্প্যানিশ আর্মাডারা।
প্রথমে গোলে পেলে এগিয়ে গেলেও ১-১ সমতায় শেষ হয় ম্যাচের প্রথমার্ধ। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের প্রায় শেষ সময়ের গোলে ২-১ গোলের ব্যবধানে জয় তুলে নেয় স্পেন।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণে আধিপত্য দেখায় স্পেন। তবে বেলজিয়ামের জমাট রক্ষণ ভাঙতে তাদের ৩০ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। পেদ্রির জায়গায় একাদশে সুযোগ পাওয়া ফাবিয়ান রুইজ ম্যাচের ৩০তম মিনিটে স্পেনকে প্রথম লিড এনে দেন। দানি ওলমোর একটি বুলেট গতির শট বেলজিয়ামের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া ফিরিয়ে দিলেও ফিরতি বলে রুইজের নেওয়া শট প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়।
গোল হজম করলেও থেমে যায়নি বেলজিয়াম। ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে উঠে তারা। তার ফলও পায় দলটি। ম্যাচের ৪১তম মিনিটে নিখুঁত এক ফিনিশিংয়ে স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমনকে পরাস্ত করেন চার্লস ডি কেটেলারা। প্রথমার্ধে আর গোল না হওয়ায় ১-১ সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে বেলজিয়াম শিবিরে নেমে আসে অন্ধকার। দলের সবচেয়ে বড় ভরসা থিবো কোর্তোয়া চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হলে পোস্টের নিচে দাঁড়ান তরুণ গোলরক্ষক সেনে ল্যামেন্স। আর এই পরিবর্তনই ম্যাচের ভাগ্য পুরোপুরি বদলে দেয়।
খেলার ৮৬তম মিনিটে স্প্যানিশ ডাগআউট থেকে সুপার-সাব হিসেবে মাঠে নামানো হয় মিকেল মেরিনোকে। আর মাঠে নামার ঠিক দুই মিনিটের মাথায়, অর্থাৎ ৮৮তম মিনিটে মেরিনো বনে যান স্পেনের জাতীয় নায়ক! স্প্যানিশ রক্ষণভাগের তরুণ তুর্কি পাউ কুবার্সির একটি নিচু জোরালো শট বেলজিয়ান গোলরক্ষক ল্যামেন্সের গ্লাভস ফসকে বেরিয়ে যায়। ওত পেতে থাকা মিকেল মেরিনো বাঘের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে আলগা বলটি জালের ভেতর ঠেলে দেন।
ল্যামেন্সের এই ক্ষমার অযোগ্য গোলকিপিং ভুলের চড়া মূল্য চকাতে হলো পুরো বেলজিয়াম দলকে। শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই ২-১ গোলের এক নাটকীয় জয় উদযাপনে মাতে স্পেন। এবার আগামী মঙ্গলবার ডালাসের মাঠে ফরাসি গতি বনাম স্প্যানিশ পাসিং ফুটবলের সেই বহুল প্রতীক্ষিত ‘ব্লকবাস্টার’ সেমিফাইনাল দেখার জন্য চড়ছে বিশ্বফুটবলের পারদ!












