পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের সঙ্গে সম্মান, ন্যায্যতা ও সমতার ভিত্তিতে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। পাশাপাশি সার্ককেও পুনর্জীবিত করার কথা বলা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।
রোববার (০৮ সেপ্টেম্বর) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. ইউনূসের মতবিনিময় সভায় এমনটা জানানো হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানান প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম।
সরকার প্রধান প্রতিবেশীর সঙ্গে পারস্পারিক সমান সম্মান এবং ন্যায্যতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মাহফুজ আলম সাংবাদিকদের জানান, শিক্ষার্থীদের এক প্রশ্নের উত্তরে ভারত-বাংলদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে বর্তমান সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন ড. ইউনূস।
প্রধান উপদেষ্টা দক্ষিণ এশীয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াতে সার্ক পুনরুজ্জীবনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার কাজ করতে আগ্রহী।
ফরেন সার্ভিস একাডেমীতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মাহফুজ আলম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে যেন আগের মতো রাজনীতি ফিরে আসতে না পারে সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছাত্র রাজনীতি যদি না থাকে, সেক্ষেত্রে কোন পদ্ধতিতে রাজনীতি চলবে সে বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন।
ক্যাম্পাস রাজনীতি ও ভারত-বাংলাদেশ ইস্যু এবং বিচার ব্যবস্থা নিয়ে ছাত্রদের প্রশ্ন ছিল এবং এ সকল বিষয়ে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করা হয়েছে বলেও জানান মাহফুজ।
মব জাস্টিস কোনোভাই গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে মাহফুজ আলম বলেন, সরকারের অবস্থান পরিষ্কার। মব জাস্টিজ কোনোভাবে করা যাবে না। যারা জড়িত আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। যারা স্বৈরাচারদের দোষর তাদের বিচার জনগণ করবে না। তাদের আইনের হাতে সোপর্দ করতে হবে। সরকার এই ব্যাপারে কঠোর। জনগণ যেন মব জাস্টিসের আশ্রয় না নেয়, এই নিয়ে সরকারের অবস্থা কঠোর আগে থেকেই।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, মোহাম্মদ আবুল আজাদ মজুমদার, অপূর্ব জাহাঙ্গীর উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে চলে যান। গত ৮ আগস্ট শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার শপথ গ্রহণ করে। আজ সরকারের এক মাস পূর্তি উপলক্ষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া ১৫০ জন ছাত্র প্রতিনিধি সরকার প্রধানের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।