প্রায় সময়ই সংবাদের শিরোনাম হন ঢালিউডের আলোচিত নায়িকা পরীমণি। তবে তার ক্যারিয়ার নিয়ে নয়, বিতর্কিত কিছু কর্মকাণ্ডের কারণে। ফলে তার ব্যক্তিগত জীবনও থাকে সমালোচনার মধ্যে। এর আগে মাদককাণ্ডে জড়িয়ে রিমান্ড থেকে শুরু করে থানা-হাজতেও কাটিয়েছেন নায়িকা। এরপর এক ব্যবসায়ীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগেও কোর্ট-কাচারি বেড়াতে হয়েছে তাকে। যদিও পরে জামিন পেয়েছেন তিনি। এবার চিত্রনায়িকার বিরুদ্ধে গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

এক বছরের সন্তানকে খাবার খাওয়ানো নিয়ে বিরোধের জেরে গৃহকর্মী পিংকি আক্তারকে মারধরের অভিযোগ উঠে নায়িকার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে ভাটারা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দিবাগত রাতে ফেসবুক লাইভে এসে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন পরীমণি।

২১ মিনিট ৬ সেকেন্ডের লাইভে তিনি অভিযোগ আইনিভাবে মোকাবিলার কথা বলেন এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। দাবি করেন, সবটাই একতরফা; এবং তিনি একপাক্ষিক বিচারের শিকার।

ফেসবুকে লাইভে এসে পরীমণি বলেন, ‘আমি এ পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য একদম প্রস্তত ছিলাম না।’ দীর্ঘশ্বাস ফেলে কড়া গলায় বললেন, ‘এত মিডিয়া ট্রায়াল (একপাক্ষিক সংবাদ) বন্ধ করে দেন।’ এরপর খানিকটা মুচকি হেসে হুমকির সুরে বলেন, ‘জনগণ কিন্তু আস্ত একটি মিডিয়া, যদি সে সঠিক হয়, সত্যি হয়। এসব স্ট্যাম্পমারা মিডিয়ার দরকার হয় না। এগুলো করবেন না, এগুলো সুন্দর দেখায় না। আপনারা হবেন সাপোর্টিভ, এগুলো কি করেন আপনারা!’

পরীমণি বলেন, ‘একতরফা করবেন না, করলে সবদিক থেকেই করবেন। প্রমাণের জন্য অপেক্ষা করেন, আমার বাসার নিচে আসতে হবে না। আমি নিজেই আপনাদের কাছে যাব। আমি আপনাদের কয়বার নক দিয়েছি, ওই মেয়ে যে আপনাদের নক দিয়েছে? আপনাদের নাম্বার ও কীভাবে পেল? নাকি আপনাদেরই গরজ। নাকি হাতে এস লেখা বলে আপনাদের বলদ ফলদ বলেছিলাম বলে আপনাদের গায়ে লাগল? তো বলদের প্রমাণ দিয়ে দিচ্ছেন?’

এরপর বেশ খানিকটা উত্তেজিত হয়ে বেশ কিছু অকথ্য ভাষায় কথায় বলেন পরীমণি; যা প্রকাশের অযোগ্য। পরীমণি বলেন, ‘আপনারা আইন, সংসার, জীবন-সবকিছুর ঊর্ধ্বে যেতে চান। হুমকির সুরে পরীমণি আবার বললেন, ‘হিসাব কিন্তু একদিন আপনাদের দিতেই হবে। মিলিয়ে নিয়েন।’

তিনি আরও বলেন, আমার হাতে সমস্ত প্রমাণ আছে, কিন্তু আমি এখনই কিছু দিতে চাই না, কারণ আমি আইনকে শ্রদ্ধা করি। লাইভে একাধিকবার আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। লাইভের শেষাংশে তিনি বলেন, এই যে মিডিয়া ট্রায়াল, দয়া করে এটা বন্ধ করুন। অন্যদিকে, এ বিষয়ে এখনও তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি নিয়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা চলছে।