দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে জমজমাট রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। ক্ষমতাসীন দল বিএনপির পক্ষ থেকে দলের প্রবীণ নেতা ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, বিরোধী জোট হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট নির্বাচনী লড়াইয়ে নামিয়েছে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে।
এদিকে রাষ্ট্রপতি পদে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, এমন জল্পনার মধ্যে বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা হয়নি বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী ও সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রস্তাব দেওয়া হয়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী নির্বাচনের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
ড. ইউনূসের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা থাকলেও তিনি রাজনৈতিক সরকারের কোনো দায়িত্ব গ্রহণে অনাগ্রহী।
এদিকে আজ (রোববার) বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমানের মিন্টো রোডের বাসভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে ১১ দলীয় জোট আনুষ্ঠানিকভাবে কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে। বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
গত মাসে স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হয়। তিনি শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। পদত্যাগের আগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছিল।
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
বাংলাদেশের সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতা সীমিত হলেও রাজনৈতিক সংকট, নেতৃত্বের শূন্যতা বা সাংবিধানিক পরিবর্তনের সময় এ পদটির গুরুত্ব বেড়ে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে ড. ইউনূসকে জাতিসংঘের মহাসচিব পদেও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা চলছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে তার ঘনিষ্ঠ এক সহযোগীর বরাত দিয়ে বলা হয়, বর্তমানে জাতিসংঘ বা অন্য কোনো আন্তর্জাতিক দায়িত্ব গ্রহণেও তিনি আগ্রহী নন। তবে এসব তথ্যের বিষয়ে বিএনপি বা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।












