ইরানের লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর জর্ডানে থাকা দুই মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য স্টাডিজ প্রোগ্রামের পরিচালক সিনা আজোদি আলজাজিরাকে বলেন, সংঘাত আরও বাড়বে কিনা, সেটি এখন মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করছে।

আইআরজিসির মহাকাশ শাখা ৩১ আগস্ট সোমবার ভোরে এই পাল্টা আঘাত হানার খবর নিশ্চিত করে জানায়, হামলায় মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল ঘাঁটিগুলোর প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র এবং যুদ্ধবিমান অবস্থানের সুনির্দিষ্ট এলাকাগুলো। ভবিষ্যতে মার্কিন পক্ষ থেকে যেকোনো নতুন সামরিক আগ্রাসন চালানো হলে তার প্রতিক্রিয়া আরও ভয়াবহ হবে বলেও সতর্কবার্তা দিয়েছে দপ্তরটি।

এর আগে ৩০ আগস্ট রবিবার ইরানের লারাক দ্বীপে দুটি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ স্থাপনা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। জুলাই মাসের পর ইরানের মূল ভূখণ্ডে এটিই প্রথম মার্কিন সরাসরি হামলা। ওয়াশিংটনের দাবি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীতে সমুদ্র-মাইনবাহী রকেট নিক্ষেপের প্রস্তুতি নেওয়ায় সেগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছে। ওই মার্কিন হামলায় বহু হতাহতের কথা উল্লেখ করে ইরান দ্রুত চরম প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিল।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। পাকিস্তান ও কাতারের কূটনৈতিক মধ্যস্থতায় সমঝোতার চেষ্টা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালী ও সামুদ্রিক অবরুদ্ধকরণ কেন্দ্র করে অঞ্চলে রক্তক্ষয়ী সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।