মধ্য আমেরিকার দেশ হন্ডুরাসের একটি নারী কারাগারের ভেতর দুই পক্ষের সহিংসতায় অন্তত ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ জুন) এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, কারাগারের ভেতর দুই গ্যাং গ্রুপের মধ্যে প্রথমে সংঘর্ষ বাধে। যার মধ্যে একটি গ্রুপ সেলের ভেতর আগুন ধরিয়ে দেয়।
কারা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহতদের বেশিরভাগেরই মৃত্যু হয়েছে আগুনে পুড়ে। তবে তাদের মধ্যে কয়েকজন গুলিবিদ্ধও হয়েছিলেন।
কারাগারে আটক বন্দি পরিবারের প্রতিনিধিত্বকারী ডেলমা ওরডোনেজ বলেছেন, সহিংসতায় কারাগারের একাংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। মঙ্গলবার ভোরে প্রতিদ্বন্দ্বী গ্যাং ‘ব্যারিও ১৮’ এবং ‘মারা সালভাক্রচার’-এর সদস্যদের মধ্যে তুমুল হট্টগোল শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সহিংসতায় গড়ায়।
সেখানে কী ঘটেছিল তার প্রকৃত কারণ এখনও বিস্তারিত জানাতে পারেনি সরকার। ঘটনার কয়েকটি ছবি প্রকাশ হয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে। তাতে দেখা গেছে, কারাগার থেকে কালো ধোঁয়া বের হচ্ছিল।
হন্ডুরাসের উপনিরাপত্তামন্ত্রী, জুলিসা ভিলানুভা জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। যারা এ সহিংসতার সঙ্গে জড়িত তাদের বিচারের আওতায় আনবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
এছাড়া আহতদের উদ্ধার এবং সহিংসতা থামাতে তাৎক্ষণিকভাবে দমকলকর্মী, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ অনুমোদন করেন জুলিসা ভিলানুভা। তিনি বলেছেন, ‘মানুষের জীবনহানি সহ্য করা হবে না।’
এদিকে যারা নিহত হয়েছেন তারা সবাই কয়েদি কিনা সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। রাজধানী তেগুসিগালপা থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই কারাগারটিতে একসঙ্গে ৯০০ বন্দি থাকতে পারেন।
দেশটিতে আগেও একাধিকবার বড় ধরনের দাঙ্গার ঘটনা ঘটে। ২০১৯ সালে দুই গ্যাং দলের সংঘর্ষে ১৮ বন্দি নিহত হন। ২০১২ সালে আগুন দেওয়ার ঘটনায় পুড়ে মারা যান সাড়ে ৩০০ জনের মতো বন্দি।