আওয়ামী লীগ সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের নাম করে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে, অন্যদিকে জ্বালানি হিসেবে গ্যাস আমদানি করছে। আওয়ামী লীগের ব্যবসায়ীরা এসব আমদানি করছেন। দেশের মানুষ বিদ্যুৎ , গ্যাস পাচ্ছে না। আওয়ামী লীগ অত্যন্ত সচেতনভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছে।

সারাদেশে লোডশেডিং ও জ্বালানী খাতে অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে শনিবার (৩০শে জুলাই) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি একথা বলেন। বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন রাজনীতি, বিচারবিভাগকে ধ্বংসের পর এবার অর্থনীতিকে শেষ করছে সরকার। এটা তাঁদের চরিত্র।

সরকার পতনের জন্য একদফা আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে ফখরুল বলেন, ‘এ সরকারের কারণে মানুষের কষ্ট হচ্ছে। এ সরকারের পতন না হলে মানুষের কষ্ট কমবে না।’

সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে ইঙ্গিত করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আপনি তো গোটা সড়ক ব্যবস্থাকে নৈরাজ্যের মধ্যে ফেলে দিয়েছেন। প্রতিদিন শত শত মানুষ এ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে। এমন অসংখ্য নজির আমরা প্রতিদিন দেখতে পাচ্ছি।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশের মানুষ বিদ্যুৎ, গ্যাস পাচ্ছে না। আওয়ামী লীগ অত্যন্ত সচেতনভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছে। রাজনীতি, বিচারবিভাগকে ধ্বংসের পর এবার অর্থনীতিকে শেষ করছে। এটা তাদের চরিত্র। সরকার উন্নয়নের মিথ তুলে ধরে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে।

দুর্নীতি-মেগাচুরির কারণে বিদ্যুৎ খাতে ভরাডুবি ও লোডশেডিং হচ্ছে এমন মন্তব্য করে ফখরুল আরও বলেন, ‘একদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদন না করে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে, এখন আবার দুর্নীতি করতে নিজস্ব লোকদের দিয়ে বিদেশ থেকে এলপিজি গ্যাস আমদানি করছে।’

বিক্ষোভ-সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম এবং সঞ্চালনা করেন দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু। এ সময় বক্তব্য দেন ঢাকা উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানুল্লাহ আমান, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোনায়েম মুন্না, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম, যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মামুন হাসান, ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির নেতা নবী উল্লাহ নবী, ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন ও ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল প্রমুখ।