দেশে হাম ও হামের উপসর্গে শিশুমৃত্যুর ঘটনা কমছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে হামে আক্রান্ত হয়ে ৩ জন এবং উপসর্গ নিয়ে ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
একই সময়ে দেশে সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ১০৫ জন। এছাড়া পরীক্ষায় আরও ৮৭ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, ১১ মে সকাল ৮টা থেকে ১২ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশজুড়ে নতুন করে ১,১০৫ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে আরও ৮৭ জন।
সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৯ জনের মধ্যে ৩ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বাকি ৬ জন হামের উপসর্গ নিয়ে (সন্দেহজনক) মারা গেছে।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দেশের মধ্যে সিলেট বিভাগে মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। জেলা হিসেবেও সিলেট জেলা বর্তমানে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে হামে আক্রান্ত হয়ে ২ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।
গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া হামের এই প্রকোপে সারাদেশে সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১ হাজার ৫৬৭ জনে। এর মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ৭ হাজার ২৪ জনের।
এ পর্যন্ত মোট ৩৬ হাজার ৮৮১ জন হাম আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৩২ হাজার ৮৭৭ জন।
১৫ মার্চ থেকে ১২ মে পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ৬৮ জন নিশ্চিত রোগী এবং ৩৫৬ জন সন্দেহজনক রোগীসহ সর্বমোট ৪২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে হামের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় হামের টিকা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।












