প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এই ১ লাখের মধ্যে ৮০ শতাংশ থাকবে নারী স্বাস্থ্যকর্মী। এই মানুষগুলোর দায়িত্ব হবে গ্রামে গ্রামে, ঘরে ঘরে যাওয়া। শহরেও তারা থাকবে।
তবে আমরা জোর দেব, গ্রামের মানুষের ওপরে বেশি। তারা বিশেষ করে পরিবারের নারীদের কাছে গিয়ে স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা চালাবে।’
শনিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে সিলেট সিটি করপোরেশন প্রাঙ্গণে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী।
বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যত দ্রুত সম্ভব এসব কারখানা চালু করতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিয়ে চালু করা হবে। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে।
সুধী সমাবেশে সিলেট-ঢাকা সড়ক ও রেলপথ উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় সিলেট সফরে এসে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, সিলেট থেকে লন্ডন যেতে যেখানে সাড়ে ৯ ঘণ্টা লাগে, সেখানে সিলেট থেকে সড়কপথে ঢাকায় যেতে প্রায় ১০ ঘণ্টা সময় লাগে। এ কারণে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক উন্নয়নের কথা বলা হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার গঠনের পর খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক সম্প্রসারণে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে ১১টি স্থানে জটিলতা ছিল, যার কারণে কাজ আটকে ছিল। এসব সমস্যা ইতোমধ্যে সমাধান করা হয়েছে। শিগগিরই কাজ শুরু করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, শুধু সড়কপথ নয়, রেল যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কারণ সড়ক বড় হলে যানবাহন বাড়ে এবং যানজটও বাড়ে, পাশাপাশি ফসলি জমি নষ্ট হয়। এ কারণে ঢাকা-সিলেট রেলপথ ডাবল লাইনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
নগরের জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যাচ্ছে এবং সুনামগঞ্জের কৃষকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে, যা উদ্বেগজনক। এ কারণে খাল খনন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, যাতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও জলাবদ্ধতা নিরসন করা যায়।
সুধী সমাবেশে যোগ দেওয়ার আগে নগরের চাঁদনিঘাটে বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, হুইপ জি কে গউছ এবং সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকার।











