বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ৩ লাখ ৮ হাজার ৯৭৫ জন রোহিঙ্গাকে রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে মিয়ানমার। তবে এখনই তাদের নিজ দেশে ফেরত নেওয়া হবে না। রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে তাদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সোমবার (১৭ আগস্ট) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে এই স্বীকৃতিকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যাচাই-বাছাই শেষে ৩ লাখ ৮ হাজার ৯৭৫ জন বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় এটিকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ‘রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হলে যাচাইকৃত সাবেক বাসিন্দাদের সেখানে ফিরিয়ে নেবে মিয়ানমার।’

এর আগে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসন শুরুর একাধিক উদ্যোগ ব্যর্থ হয়। নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব এবং মৌলিক অধিকার নিয়ে সংশয় থাকায় এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনও প্রত্যাবাসন সম্ভব হয়নি।

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৩১ জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে পাঠানো ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের তালিকার মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে সাবেক রাখাইনবাসী হিসেবে যাচাই করা হয়েছে।

তবে তালিকায় থাকা ৪ হাজার ২৪১ জনকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে দাবি করেছে মিয়ানমার। এছাড়া আরও ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের পরিচয় যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে দেশটি।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের পর ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এরপর থেকে কক্সবাজারসহ বিভিন্ন শিবিরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা অবস্থান করছে।

এদিকে রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। মিয়ানমার বলছে, এই নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে এখনই রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়া সম্ভব নয়।

মিয়ানমারের দাবি, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের দ্বিপক্ষীয় বিষয়। এর আগে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে প্রত্যাবাসনের জন্য দুই দেশ প্রস্তুতি নিলেও শেষ পর্যন্ত কোনো রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারেনি।

এদিকে মালয়েশিয়া থেকে ৫ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয়প্রার্থীকে ফিরিয়ে নিতে সম্মতি জানিয়েছে মিয়ানমার। তবে তাদের জীবন ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা থাকলে এই প্রত্যাবাসন হবে না বলে জানিয়েছে মালয়েশিয়া।