দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি পাটকল পুনরায় চালু করতে বেসরকারি দুই প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) এ বিষয়ে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) সঙ্গে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও হ্যামকো গ্রুপের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি মোস্তফা জুলফিকার হাসান শিপলু এ তথ্য জানান।

চুক্তি অনুযায়ী, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলস লিমিটেড এবং খুলনার স্টার জুট মিলস লিমিটেড লিজ নিয়েছে। অন্যদিকে, হ্যামকো গ্রুপ লিজ নিয়েছে খুলনার প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস লিমিটেড। রাজধানীর সরকারি পর্যায়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিজেএমসির পক্ষে সংস্থাটির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কবির উদ্দিন সিকদার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এছাড়া প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পক্ষে কোম্পানি সচিব আমিনুর রহমান এবং হ্যামকো গ্রুপের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ টি এম মোস্তফা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চালুর পর এই তিনটি মিলে প্রায় ৬১৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। এর ফলে নতুন করে কমপক্ষে ১১ হাজার ৬২৯ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্ভাব্য বার্ষিক টার্নওভার ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা।

জাতীয় জুট মিলস (সিরাজগঞ্জের রায়পুর): এই মিলে প্রায় ১৫৭ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। মিলটি চালু হলে ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থান হবে এবং বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ৫০০ কোটি টাকা হতে পারে।

স্টার জুট মিলস (খুলনার দিঘলিয়া): এই মিলে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। এর মাধ্যমে ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং বার্ষিক টার্নওভারের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৫০০ কোটি টাকা।

প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস (খুলনার খালিশপুর): এই মিলে প্রায় ২১২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। মিলটি চালু হলে অন্তত ১ হাজার ১৫৩ জনের কর্মসংস্থান এবং প্রায় ১৭৫ কোটি টাকার বার্ষিক টার্নওভার অর্জিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিজেএমসির উৎপাদন বন্ধ থাকা ২৫টি মিলের মধ্যে ২০টি পাটকল ইজারার মাধ্যমে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এরই মধ্যে ১৪টি মিলের লিজ সম্পন্ন করে লিজগ্রহীতাদের কাছে দখল হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে নয়টি মিলে ইতোমধ্যে উৎপাদন শুরু হয়েছে।

সরকারের এই উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো আবার উৎপাদনে ফেরার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, বস্ত্র ও পাট সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীসহ বিজেএমসি এবং লিজ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।