বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আজকের অসুস্থতা স্বাভাবিক অসুস্থতা নয় বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি বলেছেন, একটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতির শিকার হয়ে তিনি আজকের এ অবস্থায় অসুস্থ হয়েছেন।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ‘রূপসী বাংলা আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান-২০২৫’-এ তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, তিনি সব সময় কারা কর্মকর্তাদের বিষয়ে সতর্ক থেকেছেন। কারণ কারাগারে স্লো পয়জন দেওয়া হয়। তিনি আরও জানান, ঢাকায় আসা এক ভারতীয় সাংবাদিক তাকে বলেছিলেন— আমরা কি নিয়ে লাফালাফি করছি? উনি তো বাঁচবেন না দুই বছর। আব্বাস জানতে চাইলে ওই সাংবাদিক বলেন, সবকিছুই ‘ডিজাইন’ করে রাখা হয়েছে— এমনভাবে যে তিনি ধীরে ধীরে মৃত্যুবরণ করবেন। কিন্তু আল্লাহর রহমতে এখনো বেঁচে আছেন। তিনি খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) রাত একটার দিকে তিনি খালেদা জিয়াকে দেখতে যান এবং প্রায় এক ঘণ্টা সেখানে ছিলেন। আজকের সর্বশেষ খবরে তিনি আগের চেয়ে ভালো আছেন বলে জানান। এ সময় তিনি খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, যারা দেশের বাইরে থেকে চক্রান্ত করছে, তারাই বহু বছর দেশ দখলে রেখেছিল এবং দেশকে ‘শেষ করে দিয়েছে’। এখন বিদেশে বসে তারা বলছে— আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচন হবে না। তিনি প্রশ্ন তোলেন— তারা কি বিএনপিকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করেননি? তার মতে, বাংলাদেশে নির্বাচন হবেই এবং তা আসন্ন ফেব্রুয়ারিতেই হবে।
নির্বাচন নিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, আজকে যারা দেশের বাইরে থেকে চক্রান্ত করছে, তারা দেশটাকে বছরের পর বছর দখল করে রেখেছিল। তারা দেশটাকে একবারে শেষ করে দিয়ে গেছে। তারা এখন বিদেশে বসে বক্তব্য দিচ্ছে আওয়ামী লীগকে ছাড়া নির্বাচন হবে না। আপনারা বিএনপিকে ছাড়া নির্বাচন করেন নাই? সুতরাং নির্বাচন বাংলাদেশে হবেই। এই ফেব্রুয়ারিতে হবে, এতে কোনো ভুল নাই।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম মহসীন, সাবেক সভাপতি এ বি এম রফিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক বাবুল তালুকদার, রূপসী বাংলা-২০২৫ আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতার আহ্বায়ক নাসিম শিকদার, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ আলম প্রমুখ।
রূপসী বাংলা-২০২৫ আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন এম হায়দার আলী (চট্টগ্রাম), দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন শামসুল হক রিপন (ঢাকা) এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন এম রাশেদ (চট্টগ্রাম)।












