টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল রূপ নিয়েছিল চার-ছক্কার এক অবিশ্বাস্য রণক্ষেত্রে। দুই দল মিলে তুলল ৪৯৯ রান, হাঁকাল ৩৪টি ছক্কা! রেকর্ড ভাঙাগড়ার এই রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে শেষ হাসি হেসেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত। জ্যাকব বেথেলের বিস্ফোরক এক সেঞ্চুরি ইংল্যান্ডকে জয়ের স্বপ্ন দেখালেও শেষ পর্যন্ত ৭ রানের জয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে নাম লিখিয়েছে সূর্যকুমার যাদবের দল।

শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৫৩ রান করে ভারত। জবাবে ইংল্যান্ড করে ২৪৬ রান।

রান তাড়া করতে নেমে শুরুটাই ভালো হয়নি ইংল্যান্ডের। দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই সাজঘরের পথ ধরেন ওপেনার ফিল সল্ট। হার্দিক পান্ডিয়ার করা বলে অক্ষর প্যাটেলের হাতে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। আউট হওয়ার আগে করেন ৫ রান। আর দ্বিতীয় উইকেটে ব্যাট করতে নেমে দলনেতা হ্যারি ব্রুক ফেরেন ৬ বলে ৭ রান।

তৃতীয় উইকেট জুটিতে সেই ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন জস বাটলার আর জ্যাকবল বেথেল। কিন্তু ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেননি বাটলার। বরুণ চক্রবর্তীর বলে বোল্ড হয়ে ফেরার আগে করেছেন ১৭ বলে ২৫ রান করে। পাঁচ নম্বরে নেমে ঝড় তোলার আভাস দেন টম ব্যান্টন। কিন্তু ৫ বলে ১৭ রান করে ফিরে যান তিনিও।

এরপর পঞ্চম উইকেট জুটিতে ইংলিশদের আশা দেখান বেথেল আর উইল জ্যাকস। ৩৯ বলে ৭৭ রানের জুটি গড়েন এই দুজন। দারুণ এক রিলে ক্যাচে জ্যাকসকে ফিরিয়ে সেই জুটি ভাঙেন আর্শদ্বীপ সিং। ২০ বলে ৩৫ রান করে ফেরেন জ্যাকস। জ্যাকস ফিরলে আবারও চাপে পড়ে যায় ইংল্যান্ড।

বাকিদের এমন দায়িত্বহীন ব্যাটিংয়ের পরও একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন বেথেল। ভারতের বোলারদের শাসন করে ব্যাট করছিলেন ২০০ এর ওপরে স্ট্রাইকরেটে। সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ইংলিশদের আশা হয়ে ছিলেন তিনি।

শেষ ওভারে জয়ের জন্য ৩০ রান প্রয়োজন ছিল ইংল্যান্ডের। ওভারের প্রথম বলে দুই রান নিতে গিয়ে রান আউট হয়ে যান বেথেল। শেষ হয়ে যায় ইংলিশদের আশা। ফেরার আগে ৪৮ বলে ১০৫ রান করেন বেথেল। তার ইনিংস সাজানো ছিল ৮ চার আর ৭ ছক্কায়।

এর আগে ওয়াংখেড়েতে টস হেরে ব্যাট করতে নামে ভারত। সুবিধা করতে পারেননি ওপেনার অভিষেক শর্মা। মাত্র ৯ রান করে আউট হন তিনি। শুরুতেই উইকেট হারালেও দলকে চাপে পড়তে দেননি স্যাঞ্জু স্যামসন ও ইশান কিষাণ। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে আসে ৯৭ রান। মাত্র ১৮ বলে ৩৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন ইশান।

এদিকে ফিফটি তুলে নেন স্যামসন। সেঞ্চুরির পথেই ছিলেন ডানহাতি ব্যাটার। কিন্তু সেঞ্চুরির আক্ষেপটা থেকে যায় তার। উইল জ্যাকসের করা বলে ফিল সল্টের হাতে ক্যাচ তুলে দেওয়ার আগে ৮৯ রান করেন তিনি। মাত্র ৪২ বলে খেলা তার এই ইনিংসটি আটটি চার এবং সাতটি ছয়ে সাজানো।

দ্রুত রান তোলার জন্য শিবম দুবেকে চার নম্বরে ব্যাট করার জন্য পাঠানো হয়। আস্থার প্রতিদান দেন তিনি। মাত্র ২৫ বলে একটি চার ও চারটি ছয়ের সাহায্যে করেন ৪৩ রান। তবে সুবিধা করতে পারেননি দলনেতা সূর্যকুমার যাদব। ৬ বলে ১১ রান করেন তিনি। শেষদিকে ব্যাট হাতে ক্রিজে ঝড় তোলেন হার্দিক পান্ডিয়া ও তিলক ভার্মা। হার্দিক ১২ বলে ২৭ ও তিলক ৭ বলে ২১ রান করেন। এছাড়া অক্ষর প্যাটেল ২ ও বরুণ চক্রবর্তী শূন্যরানে অপরাজিত থাকেন।

ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ দুটি করে উইকেট নেন উইল জ্যাকস ও আদিল রশিদ। জোফরা আর্চার পেয়েছেন একটি করে উইকেট।