আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটির তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ওই আহ্বান জানান। বিবিসির খবর

ফোনালাপে আরাঘচিকে ওয়াং ই বলেন, “হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাকে যেভাবে সম্মান করা ও সুরক্ষিত রাখা উচিত, সেভাবেই এই জলপথ দিয়ে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা-নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”

তিনি বলেন, “বর্তমানে সার্বিক পরিস্থিতি বেশ জটিল একটি জায়গায় পৌঁছেছে। আমরা এখন সংঘাত এবং শান্তির মধ্যবর্তী একটি স্থানে আছি। এই স্থান থেকে শান্তিতে উত্তরণের পথ হতে পারে হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করে দেওয়া।”

ওয়াং ই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং উভয়পক্ষের আলোচনায় ফিরে আসাকে চীন পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। তবে ওয়াং ইর এই আহ্বানের জবাবে আরাঘচি কী বলেছেন, সেই বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে কোনও তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্বের অনেক দেশের কাছে তেল বিক্রি করতে পারে না ইরান। ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন। ইরানের মোট তেলের ৮০ শতাংশই কেনে বেইজিং।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী এখন থেকে ‘স্থায়ীভাবে উন্মুক্ত’ রাখা হবে এবং ভবিষ্যতে এটি আর কখনোই অবরুদ্ধ হবে না।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তে চীন সন্তুষ্ট হয়েছে এবং বিষয়টি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও ইতিবাচক হবে।

ট্রাম্পের ভাষায়, তিনি এটি শুধু চীনের জন্য নয়, বরং বিশ্বের স্বার্থেও করছেন।

পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন পরস্পরের সঙ্গে ‘ভালোভাবে ও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে’ কাজ করছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আকস্মিক ইরানে হামলা করে বসে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানিসহ অনেক শীর্ষ নেতা নিহত হন। এরপর প্রতিশোধমূলক পাল্টা হামলা চালাতে শুরু করে তেহরান। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়।

পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকলে মধ্যস্থতায় এগিয়ে আসে পাকিস্তান। দুপক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। এরপর গত ১০ ও ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আলোচনায় বসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। কিন্তু সেখানে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি দুপক্ষ। সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারার জন্য পরস্পরকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।

এই অবস্থায় তেহরানকে চাপে ফেলতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ইরানে জাহাজ চলাচল আটকাতে নৌ অবরোধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে ইরানও তাদের অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল করতে দিচ্ছে না।