নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ৬ উইকেটে জয় লাভ করেছে বাংলাদেশ। এই জয়ের মাধ্যমে সিরিজে সমতা আনলো স্বাগতিকরা। সোমবার (২০ এপ্রিল) মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করতে নেমে সবকটি উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৯৮ রানে থেমে যায় নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। জবাবে ৮৭ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।

যদিও ১৯৯ রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। প্রথম ওভারেই ফেরেন গত ম্যাচের হাফ সেঞ্চুরিয়ান সাইফ হাসান (৮ রান)। দ্রুতই বাংলাদেশি ওপেনারকে অনুসরণ করেন প্রায় এক বছর পর ওয়ানডেতে সুযোগ পাওয়া সৌম্য সরকার (৮ রান)।

তবে শুরুর ধাক্কা দারুণভাবে সামলান তানজিদ তামিম ও শান্ত। তৃতীয় উইকেটে ১১০ রানের জুটি গড়ে জয়ের কাজটা সহজ করে দেন তারা। যদিও দুজনের কেউই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেননি। ওপেনিংয়ে নেমে ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ৭৬ রান করে ফেরেন তানজিদ তামিম। ১৩১.০৩ স্ট্রাইকরেটের ইনিংসটি সাজান ১০ চার ও ৪ ছক্কায়।

শান্ত অবশ্য আউট হননি। তীব্র গরমে ক্র্যাম্প করায় কাঁটায় কাঁটায় ৫০ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট হন তিনি। টেস্ট অধিনায়ক ক্যারিয়ারের ১১তম ওয়ানডে ফিফটি পেয়েছেন ১৩ ইনিংস পর। শান্ত চোট নিয়ে মাঠ ছাড়ার পরে জয়ের কাজটা সারেন তাওহিদ হৃদয় ও মিরাজ। হৃদয়ের ৩০ রানের বিপরীতে অধিনায়ক ৮ রানে অপরাজিত থাকেন। প্রতিপক্ষের হয়ে সর্বোচ্চ ২ উইকেট নেন জাইডেন লিনক্স।

এর আগে মিরপুরে টস জিতে ব্যাটিং নিয়ে সুবিধা করতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। পাওয়ার প্লের ১০ ওভারে ২৮ রান দিয়ে ২ উইকেট নেয় বাংলাদেশ। দুটি উইকেটই নেন নাহিদ। অষ্টম ওভারে হেনরি নিকোলসকে ১৩ রানে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন বাংলাদেশি পেসার। পরের ওভারেও প্রথম বলে তিনি উইল ইয়াংকে (৭) সৌম্য সরকারের ক্যাচ বানান তিনি। পরে সৌম্য সরকার তুলে নেন প্রতিপক্ষ অধিনায়ক টম লাথামের উইকেট। ৩৫ বলে ১৪ রান করেন তিনি।

৫২ রানে ৩ উইকেট পড়ার পর নিউজিল্যান্ডের ওপেনার নিক কেলি ও মুহাম্মদ আব্বাস ৫৬ রানের জুটি গড়েন। ২৭তম ওভারের শেষ বলে ফিফটি করেন কেলি। আব্বাসকে ১৯ রানে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন নাহিদ। উড়ন্ত ক্যাচে তাকে ফেরান লিটন। কেলি সেঞ্চুরির বেশ কাছে গিয়েও ব্যর্থ হন। শরিফুল ইসলাম তাকে ৮৩ রানে তাওহীদ হৃদয়ের ক্যাচ বানান। কিউই ওপেনারের ১০২ বলের ইনিংসে ছিল ১৪ চার।

সেট ব্যাটার আউট হওয়ার পর ভেঙে পড়ে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইন। জশ ক্লার্কসনকে আউট করেন রিশাদ হোসেন। আগের ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় ডিন ফক্সক্রফট ১৫ রান করে নাহিদের শিকার হন। ব্লেয়ার টিকনারকে বদলি ফিল্ডার আফিফ হোসেনের ক্যাচ বানান শরিফুল।

নিজের শেষ ওভারে নাহিদ পঞ্চম উইকেট তুলে নেন। জেইডেন লেনক্স খালি হাতে ফেরেন বাংলাদেশি পেসারের ইয়র্কারে বোল্ড হয়ে। ১৮৩ রানে ৯ উইকেট তোলার পর নিউজিল্যান্ডকে দুইশর মধ্যে আটকানোর সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। কাভারে নাথান স্মিথের কঠিন ক্যাচ নিতে না পারার প্রায়শ্চিত্ত কিছুক্ষণ পরই করেন তাওহীদ হৃদয়। তাসকিন আহমেদের বলে উইলিয়াম ও’রোর্কের ক্যাচ নেন তিনি। ৪৮.৪ ওভারে অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড।