বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ‘বন্ধুপ্রতিম’ দেশগুলোর জন্য ফি বা মাশুল মওকুফ করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আরআইএ নভোস্তি এই খবর জানিয়েছে।

মস্কোতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি সংবাদ সংস্থাটিকে বলেন, ‘আমরা রাশিয়াসহ মিত্র দেশগুলোর জন্য বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা করেছি। তবে ভবিষ্যতে কী ঘটবে, এখনই বলা যাচ্ছে না।’

জালালি আরও বলেন, বর্তমানে বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রগুলো যেন অতিরিক্ত ব্যয় বা কোনো বাধা ছাড়াই এই কৌশলগত জলপথ ব্যবহার করতে পারে, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সুবিধার আওতায় থাকা দেশগুলোর তালিকা ও শর্তাদি পর্যালোচনা করছে বলেও জানান তিনি।

কিছুদিন আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, অনেক জাহাজ মালিক ও বিভিন্ন দেশ তাদের সাথে যোগাযোগ করছে যাতে তারা নিরাপদে এই প্রণালি অতিক্রম করতে পারে। সেই সময় তিনি জানিয়েছিলেন, ইরান যাদের বন্ধু মনে করে অথবা বিশেষ অনুমতি দেয়, তাদের সশস্ত্র বাহিনী নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করছে। সেই তালিকায় বাংলাদেশ, চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক ও ভারতের নাম উল্লেখ ছিল। তবে বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিচারে এই দেশগুলো আগের অবস্থানে আছে কি না বা সব দেশ এই সুবিধা পাচ্ছে কি না, তা নিয়ে পরিষ্কার কোনো তথ্য নেই।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এবং সংবেদনশীল নৌপথ। পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ পথটি উন্মুক্ত মহাসাগরে যাওয়ার একমাত্র সামুদ্রিক পথ। যুদ্ধের আগে এই পথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল তেল প্রবাহিত হতো, যা বৈশ্বিক চাহিদার প্রায় এক পঞ্চমাংশ। বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এই প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ ও চলাচল ব্যবস্থা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইতোমধ্যে ইরানের সংসদের ডেপুটি স্পিকার হামিদ রেজা হাজি বাবাই জানিয়েছেন, ইরান প্রথমবারের মতো প্রণালিটি দিয়ে ট্রানজিটের জন্য ফি আদায় শুরু করেছে এবং সেই অর্থ দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা হয়েছে। অর্থাৎ ইরান একই সঙ্গে দুটি কৌশল অবলম্বন করছে। একদিকে তারা কিছু দেশের কাছ থেকে বড় অঙ্কের রাজস্ব আদায় করছে, অন্যদিকে তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের জন্য মাশুল মওকুফ করে কৌশলগত ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করার চেষ্টা করছে।