প্রথমার্ধে জাপানের গোলে পিছিয়ে পড়েছিল ব্রাজিল। এরপর ক্যাসেমিরোর গোলে সমতায় ফিরে সেলেসাওরা। পুরো ম্যাচে দুর্দান্ত লড়াই শেষে প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে ২-১ গোলের জয়ে শেষ ষোলোতে পা রাখলো সেলেসাওরা।

ম্যাচের শুরু থেকে বলের দখল পুরোপুরি ছিল ব্রাজিলের দখলে। প্রথম ২০ মিনিটে তাদের বল দখল ছিল ৭০ শতাংশেরও বেশি। কিন্তু সেই দখলের কোনো ধার ছিল না। ব্রুনো গিমারায়েসের একের পর এক দূরপাল্লার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে, মাথেউস কুনিহার প্রচেষ্টা সহজেই সামলেছেন জাপান গোলরক্ষক জিওন সুজুকি। ভিনিসিউস জুনিয়রকে এমনভাবে আটকে রাখা হয়েছিল যে তার গতি কিংবা এক-একজনকে কাটিয়ে ওঠার সামর্থ্য কোনোটিই কাজে লাগেনি।

জাপান ঠিক এটাই চেয়েছিল এবং প্রথমার্ধের গোলে ম্যাচে এগিয়ে ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করার পথ প্রায় তৈরি করেই ফেলেছিল, কিন্তু ব্রাজিল তো ব্রাজিলই। পিছিয়ে থেকে ফিরে এসেও যে ম্যাচে জেতা যায় সেটাই করে দেখাল ব্রাজিল। তা-ও আবার দুর্দান্ত মেজাজে।

প্রথমার্ধে পাঁচ ডিফেন্ডার ও চার মিডফিল্ডারের ঘন ব্লক তৈরি করে জাপানিরা ব্রাজিলের মাঝমাঠের পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। বাধ্য হয়ে ব্রাজিলকে পরিকল্পনা বদলে উইং ধরে খেলতে হয়। কিন্তু সেখানে ছিল না ওভারল্যাপ, ছিল না ডিপ রান, ছিল না বক্সে পর্যাপ্ত উপস্থিতি। ফলে শত শত পাসের পরও ব্রাজিলের আক্রমণ হয়ে উঠছিল নিষ্প্রাণ। ২৯ মিনিটে সে কৌশলেরই পুরস্কার পায় জাপান।

দ্রুত পাল্টা আক্রমণে মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে উঠে আসেন কাইশু সানো। কাসেমিরোকে সামনে পেয়েও তিনি থামেননি। ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া দুর্দান্ত শট গ্যাব্রিয়েলের পাস দিয়ে আলিসঁর নাগালের বাইরে জালে জড়িয়ে যায়। পুরো স্টেডিয়াম যেন মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে যায়। স্কোরলাইন বলছিল ১-০। কিন্তু খেলার ভাষা বলছিল, জাপান আরো অনেক বেশি এগিয়ে।

বিরতিতে থেকে ফিরে গোল পেতে মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাজিল। একের পর এক আক্রমণ চালায় তারা। ম্যাচের ৫৬ মিনিটে অবশেষে গোলের দেখা পায় সেলেসাওরা। গ্যাব্রিয়েল মাগালাইয়েসের ক্রসে কাসেমিরোর দারুণ এক হেডে সমতায় ফিরেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

এরপর একাধিক আক্রমণেও করে গোলে দেখা পাচ্ছিলো না ব্রাজিল। খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর দিকে যাচ্ছি। ম্যাচের যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে গোলের দেখা পায় ব্রাজিল। গিমাইরেসের বাড়ানো বলে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির কোনাকুনি শট পোস্টে লেগে জালে জড়ায়। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা।