স্পেনের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে পর্তুগাল। একের পর এক আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণে মাঠ মাতিয়ে রেখেছিল দুই দলই। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে স্পেনের আক্রমণ সামাল দিয়েই নাজেহাল হয়েছে পর্তুগিজরা। তারপরও সমতা নিয়েই শেষ হয় নির্ধারিত ৯০ মিনিট। অবশেষে যোগ করা সময়ে বদলি খেলোয়াড় মিকেল মেরিনোর করা চোখ ধাঁধানো গোলে জয় নিশ্চিত করেছে স্পেন। রোনালদোদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভেঙে দিয়ে ডালাসে ১–০ গোলের জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে স্পেন।
ম্যাচের ৯ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ আসে স্পেনের সামনে। কিন্তু গোলরক্ষককে একা পেয়েও বল বাইরে মারেন মিকেল ওইয়ারসাবা। এরপর ১২ মিনিটে ডি বক্সের ভেতর থেকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর নেওয়া জোরালো শট ঠেকিয়ে দিয়েছেন উনাই সিমন।
ম্যাচের ১৭ মিনিটে পর পর দুইবার পর্তুগালের পোস্টে শট নেয় স্পেন। তবে ডাবল সেভে দলকে রক্ষা করেন পর্তুগিজ গোলরক্ষক দিয়েগো কস্তা।
এরপর ম্যাচের ৩৯ মিনিটে প্রায় গোল পেয়েই গিয়েছিলেন রোনালদো। জোয়াও ফেলিক্সের হেড স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমন ফিরিয়ে দেন। এরপর বক্সের ভেতর দারুণ একটি অ্যাক্রোবেটিক প্রচেষ্টা নেন রোনালদো। তবে সেটিও ঠেকিয়ে দেন সিমন। এতে গোলশূন্য সমতায় থেকে বিরতিতে যায় দু’দল।
বিরতির পর ম্যাচের গতি কিছুটা কমে যায়। দুই দলের মাঝমাঠের লড়াইয়ে হারিয়ে যেতে থাকে আক্রমণের ধার। রোনালদোকে ঘিরে রাখেন স্প্যানিশ ডিফেন্ডাররা, অন্যদিকে ইয়ামাল-অলমোদেরও সহজে জায়গা ছাড়তে চায়নি পর্তুগালের রক্ষণ।
৫৬ মিনিটে অবশ্য ধাক্কা খায় পর্তুগাল। দুর্দান্ত খেলতে থাকা নুনো মেন্দেস চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। তার জায়গায় নেলসন সেমেদো নামলেও বাঁ প্রান্তে আগের সেই দৃঢ়তা আর দেখা যায়নি।
ম্যাচের শেষ ২০ মিনিটে স্পেন ধীরে ধীরে চাপ বাড়াতে শুরু করে। ৬২ মিনিটে পেদ্রোর শট প্রতিহত হয়, ৭৩ মিনিটে ইয়ামালের দুর্দান্ত ফ্রি-কিক কর্নারের বিনিময়ে বাঁচান কস্তা। ৭৯ মিনিটে দানি অলমোর গোলমুখী শট শেষ মুহূর্তে স্লাইড করে আটকে দেন রুবেন দিয়াস। পর্তুগালের রক্ষণ তখনও অটুট।
নির্ধারিত সময় গড়িয়ে ম্যাচ যখন যোগ করা সময়ে, তখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়েই গড়াবে। কিন্তু সেই হিসাব মিলতে দিল না স্পেন।
যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে দ্রুত নেওয়া মিকেল মেরিনো একটি ফ্রি-কিক থেকে ফাবিয়ান রুইস বল বাড়ান ফেরান তোরেসকে। তোরেসও কোনো ভুল করেননি, তার পাসে দিয়োগো কস্তাকে একা পেয়ে যান মেরিনো। বাঁ পায়ের নিচু শটে বল জালে জড়িয়ে দিতে কোনো অসুবিধাই হয়নি বদলি নামা এই মিডফিল্ডারের।
বাকি কয়েক মিনিটে সব শক্তি দিয়ে সমতায় ফেরার চেষ্টা করে পর্তুগাল। কিন্তু স্পেনের রক্ষণ আর কোনো সুযোগ দেয়নি। শেষ বাঁশি বাজতেই মেরিনোকে ঘিরে আনন্দে মেতে ওঠেন সতীর্থরা। অন্যদিকে একরাশ হতাশা নিয়ে কান্নাভেজা মুখে মাঠ ছাড়েন রোনালদো। ষষ্ঠ বিশ্বকাপেও তার খালি হাতেই ফিরতে হলো।












