একদিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে ফের স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে। প্রতি ভরিতে দুই হাজার ২১৬ টাকা কমানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের (পাকা সোনা) দামও কমেছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।

আজ বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠক করে স্বর্ণের এ দাম সিদ্ধান্ত নেয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম কমেছে। এ কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা। ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকা।

বাজুস বলেছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এ মূল্য কার্যকর থাকবে। তবে অলংকারের নকশা ও ধরন অনুযায়ী মজুরি যুক্ত হবে। যেহেতু স্বর্ণালংকারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তাই গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।

এ ছাড়া অলংকার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে আগের নিয়ম বহাল থাকবে বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি। রুপার অলংকারের ভ্যাটসংক্রান্ত বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

এর আগে গত মঙ্গলবার স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল বাজুস। সেদিন প্রতি ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা। তখন ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ১৫ হাজার ১৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৩২ টাকা।

টানা দুই দফা মূল্যহ্রাসে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশের স্বর্ণবাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজার ও স্থানীয় কাঁচা স্বর্ণের দামের ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতে দাম আবারও সমন্বয় হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।