জয়ে ঐতিহাসিক মুহূর্তটা রাঙাল শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়াম ও বাংলাদেশ নারী দল। শ্রীলঙ্কাকে ৩ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ওয়ানডেতে জিতল বাংলাদেশ। বাংলাদেশের রেকর্ড জয়ের ম্যাচটি আবার রাজশাহীর মাঠটির প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এর আগে দুই দলের চার দেখায় তিনটিতে হেরেছিল টাইগ্রেসরা, একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছিল।
এই ম্যাচ দিয়েই আন্তর্জাতিক ভেন্যু হিসেবে যাত্রা শুরু করে রাজশাহীর এই মাঠ, আর অভিষেক ম্যাচেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। এর আগে যুব পর্যায়ের অনেক ম্যাচ হলেও রাজশাহীতে আজই প্রথম কোনো সিনিয়দের ম্যাচ হলো।
টসে জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নামা শ্রীলংকা শুরুটা ভালোই করেছিল। ওপেনার হাসিনি পেরেরা ও ইমেশা দুলানি মিলে উদ্বোধনী জুটিতে ৬৮ রান যোগ করেন। পেরেরা ২৭ রান করে ফিরলেও দুলানি অর্ধশতক তুলে নেন। পরে হানসিমা করুনারতেœর সঙ্গে তার ৫২ রানের জুটি দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায়। দুলানি ৫২ ও করুনারতেœ ৫৪ রান করেন।
৩৭ ওভারে ১৬০ রান তুলে ভালো অবস্থানে থাকা লংকানরা শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২০৫ রানে থামে। বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে দারুণ নৈপুণ্য দেখান রিতু মনি, তিনি ৩ উইকেট নেন। এছাড়া নাহিদা আক্তার দুটি এবং মারুফা আক্তার, সুলতানা খাতুন, রাবেয়া খান ও সোবহানা মোস্তারি একটি করে উইকেট শিকার করেন।
২০৬ রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা হয় ধাক্কায়। দলীয় ৩৪ রানে ৩ উইকেট নেই বাংলাদেশের। আগের চার ম্যাচে প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জয় না পাওয়া বাংলাদেশ তখন আরেকটি হারের শঙ্কায়। তবে সব শঙ্কা দূর করেন শারমিন। চতুর্থ উইকেটে সোবহানা মোস্তারির সঙ্গে ৮৭ রানের অপরাজিত জুটি গড়ে। ব্যক্তিগত ৪১ রানে মোস্তারি চোট পেয়ে রিটায়ার্ড হার্ট নিলে স্বর্ণা আক্তারের সঙ্গে ৭৮ রানের আরেকটি দারুণ জুটি গড়েন তিনি।
তবে জয় নিয়ে দুজনই মাঠ ছাড়তে পারেননি। দলীয় ১৯৯ রানের সময় শারমিন ও স্বর্ণা (৩৫) দুজনই আউট হন।
দুজনই আউট হলেও রেকর্ড জয় ঠিকই পেয়েছে বাংলাদেশ। অবশ্য ২০০৯ সালের ত্রিদেশীয় সিরিজে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। কিন্তু সেবার খুলনায় ৬ উইকেটের জয় পেলেও সেটা আন্তর্জাতিক ম্যাচ ধরা হয়নি। কেননা সে সময় ওয়ানডের স্ট্যাটাস পায়নি বাংলাদেশ।
রাজশাহীতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দুই ফিফটিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে দলীয় সর্বোচ্চ ২০৫ রান করে শ্রীলঙ্কা। লঙ্কানদের হয়ে ফিফটি করেন ইমেশা দুলানি ও হানশিমা করুণারতেœ। দুলানির ৫২ রানের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৫৪ রান করেন করুণারতেœ। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন রিতু মণি












