দেশ এবং জনগণের স্বার্থে প্রশিক্ষিত জনপ্রশাসন দেখতে চায় বিএনপি সরকার— এমনটি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জানান, নিজেদেরকে শুধু প্রশাসনিক কর্মকর্তা নয় বরং জনগণের সেবক ভাবতে হবে। স্বচ্ছতা ও দ্রুততার পাশাপাশি আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সরকারি কর্মকাণ্ড ঢেলে সাজানোর কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে ফাউন্ডেশনের ট্রেনিং কাম ডরমেটরি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বা বিয়াম ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে বিসিএস কর্মকর্তাদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা উন্নয়নে নানা প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। ১৯৯১ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে যাত্রা শুরু করে বিয়াম ফাউন্ডেশন।
উদ্বোধন শেষে সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। জানান, প্রত্যাশিত দেশ গড়তে জনবান্ধব প্রশাসনের বিকল্প নেই বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ এবং জনগণের স্বার্থে প্রশিক্ষিত জনপ্রশাসন দেখতে চায় বিএনপি সরকার। মেধানির্ভর, সৃজনশীল ও দায়িত্ববান প্রজন্ম গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর বর্তমান সরকার।’
উন্নয়নের সফল প্রতিটি স্তরে স্তরে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি দফা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান সরকারপ্রধান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান নির্বাচিত সরকার নির্বাচনি ইশতেহার ও স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে।’
তিনি বলেন, ‘স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে সরকারি শূন্য পদে নিয়োগ দেয়া হবে। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সরকারি কর্মকাণ্ড ঢেলে সাজাতে চায় বর্তমান সরকার।’
প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ব ব্যবস্থায়, ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসারে ওয়ান স্টপ সার্ভিস করে সমস্ত ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো প্রয়োজন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য ভবিষ্যতে সব সরকারি সেবা তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে নাগরিকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। এক্ষেত্রে দক্ষ মানব সম্পদ গড়তে বিয়ামের কার্যক্রমকে আরো শক্তিশালী করার জন্যে সরকার যে কোনো প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে প্রস্তুত।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ব-ব্যবস্থায় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং সহজীকরণে সিঙ্গেল-উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স, ওয়ান স্টপ সার্ভিস প্রতিষ্ঠা এবং সম্পূর্ণ ডিজিটাল কর্মপ্রবাহ তৈরি করে আধুনিক বিশ্বের উপযোগী করে সরকারি কর্মসম্পাদন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো প্রয়োজন।
তিনি বলেন, আমরা একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে উন্নয়নের সুফল সমাজের প্রতিটি স্তরে ধীরে ধীরে পৌঁছাবে। বৈষম্য কমে আসবে। নারী এবং যুবসমাজ উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে এবং অবশ্যই পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সহনশীলতা আমাদের প্রতিটি নীতির অংশ হবে।
জনপ্রশাসন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আপনারাই নীতি নির্ধারণ এবং নীতি বাস্তবায়নের মধ্যে সেতুবন্ধন। আপনাদের সততা, কর্মদক্ষতা এবং দায়বদ্ধতাই সরকারের সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি। আপনাদের প্রতি আমার আহ্বান নিজেদের শুধু প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে নয় বরং জনগণের সেবক এবং বন্ধু হিসেবে ভাবুন।












