ভারতীয় বাঙালি সংগীতজ্ঞ কিংবদন্তিতুল্য পণ্ডিত রবি শঙ্করের ১০৩তম জন্মদিন আজ। তার পূর্ণ নাম রবীন্দ্র শঙ্কর চৌধুরী, ডাক নাম রবু। ১৯২০ সালের ৭ই এপ্রিল ভারতের উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে জন্ম। সেখানেই বড় হয়েছেন তিনি। বড় ভাই উদয় শঙ্কর ছিলেন বিখ্যাত ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্যশিল্পী। উদয় শঙ্কর ওই সময়টা প্যারিসে থাকতেন। রবি শঙ্করের ১৯৩০ সালে বড় ভাইয়ের কাছে যান এবং সেখানেই আট বছর স্কুল শিক্ষা গ্রহণ করেন। বার বছর বয়স থেকেই রবি শঙ্কর বয় ভাইয়ের নাচের দলের একক নৃত্যশিল্পী ও সেতার বাদক শিক্ষা গ্রহণ করেন।
১৯৩৮ সালে আঠারো বছর বয়সে রবি শঙ্কর বড় ভাই উদয় শঙ্করের নাচের দল ছেড়ে মাইহারে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের অমর শিল্পী আচার্য আলাউদ্দীন খান সাহেবের কাছে সেতারের দীক্ষা নিতে শুরু করেন। দীক্ষা গ্রহণকালে তিনি আচার্যের পুত্র সরোদের অমর শিল্পী ওস্তাদ আলী আকবর খানের সংস্পর্শে আসেন। তারা পরবর্তীতে বিভিন্ন স্থানে সেতার-সরোদের যুগলবন্দী বাজিয়েছেন। ১৯৪৫ সালের মধ্যে রবি শঙ্কর সেতার বাদক হিসেবে ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী শাস্ত্রীয় সংগীত একজন শিল্পী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে যান।
১৯৫৪ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রবি শঙ্কর ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের বাহক হিসেবে তার সেতারবাদনকে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে প্রথম তুলে ধরেন। এরপর ১৯৫৬ সালে তিনি ইউরোপ ও আমেরিকায় সংগীত পরিবেশন করেন। ১৯৬৫ সালে বীটলসের জর্জ হ্যারিসন সেতারের সুর নিয়ে গবেষণা শুরু করলে রবি শঙ্করের সঙ্গে তার যোগাযোগ তৈরি হয় এবং পরবর্তীতে তা বন্ধুত্বে পরিণত হয়। এই বন্ধুত্ব রবি শঙ্করকে অতিদ্রুত আন্তর্জাতিক সংগীত পরিমন্ডলে নিজস্ব অবস্থান সৃষ্টিতে সাহায্য করে।
তার সংগীত জীবনের পরিব্যাপ্তি ছয় দশক জুড়ে। পদ্মভূষণ, পদ্মবিভূষণ, ভারতরত্ন, ভারতের রাষ্ট্রপতি পদক, পোলার মিউজিক প্রাইজ, লিজিয়ন অব অনার, রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ কর্তৃক প্রদত্ত অনারারী নাইটহুড, গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড, ১৪টি সম্মানসূচক ডক্টরেট, দেশিকোত্তম, ম্যাগাসাসে অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। ২০১২ সালের ১১ ডিসেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুবরণ করেন এই কিংবদন্তি।